জুলাই সনদ বাস্তবায়ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬ রাত ১০:১১:০৮
ঈদের বিরতির পর প্রথম অধিবেশনেই উত্তপ্ত সংসদ
ঈদের বিরতির ১৩ দিন পর সংসদের প্রথম অধিবেশনের জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
রোববার (২৯ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদে নোটিশ দেয় বিরোধী দল।
পরে এ নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদে এমন প্রস্তাবনা আনা যাবে না যার প্রতিকার আইন সংশোধন ছাড়া সম্ভব না। জুলাই জাতীয় সনদ ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলিল। কিন্তু এই দলিলের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন হয়ে যায়নি।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনে সরকারি-বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে আলাদা কমিটি গঠন করা যেতে পারে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং বিশিষ্টজনদের মতামত নিয়ে এটি পরিবর্তন করা যায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে মেজরিটির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে চায় না সরকার। বরং সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান পরিবর্তন করতে চায়, যাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদের আকাঙ্খা ধারণ করতে পারি।
তবে এ বিষয়ে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ মুলতবি করে আলোচনায় গেলে এসব আলোচনায় অংশ নেবে বিরোধী দল।
এছাড়া বিরেধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের আদেশকে অমান্য করা হচ্ছে। যার ভিত্তিতে সংসদে এসেছি তাকে অসাংবিধানিক বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান সংশোধনে কমিটি করার প্রস্তাব এনেছেন। উনি এই প্রস্তাব আনতে পারেন না। আমরা সংশোধন নয়, সংস্কারের জন্য এখানে এসেছি।
এছাড়া বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদ বলেন, আমরা রক্ত ঝরিয়েছি বলেই আপনারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন। জেনজির প্রতিনিধি হয়ে সংসদে কথা বলতে এসেছি। জেনজিরা ৭২ এর সংবিধান চায় না। নতুন বাংলাদেশ আমরা পাইনি। আমি এই নির্বাচনের জন্য রক্ত ঝরাইনি।
তিনি সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়ে আরও বলেন, রক্ত ঝরিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসিনার পতন করেছি। নতুন বাংলাদেশে প্রতারণা, প্রবঞ্চনার রাজনীতি দেখতে চাই না। যেই গণভোটের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী প্রচারণা চালিয়েছেন, তা নিয়ে এখানে কেন আলোচনা করতে হবে, প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এদিকে অধিবেশনের শুরুতেই সংবিধান সংস্কার বিষয়ে প্রস্তাবনা নিয়ে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরকারি ও বিরোধী দলের নেতারা প্রস্তাব কখন আলোচনায় আসবে তা নিয়ে বিতর্কে জড়ান।