নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৩:১০:৩৪
এবারের ঈদ জার্নি স্মুথ হয়েছে: সড়কমন্ত্রী
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ঈদের জার্নি স্মুথ হয়েছে বলেই আমি মনে করি। কারণ দেড় কোটি মানুষ তিন দিনের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে চেয়েছে, দু-একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটার জন্য আমরা দুঃখিত, জাতি দুঃখিত, জাতি ভারাক্রান্ত, মর্মাহত। একটা প্রাণেরও মানে ‘ডিপারচার’ কেউ চায় না। দুটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ, সড়কে সার্বিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সরকারের কার্যক্রম জোরদার করতে উচ্চপর্যায়ের এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
এছাড়া যানজট বলেন, মানুষের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অথবা যানবাহনের অভাবে বাড়ি যেতে পারছেন না, ঈদের দিনও রাস্তায় কেটেছে—এরকম আগে ছিল। আমরা মনে করছি যেকোনো সময়ের চেয়ে দেড় কোটি মানুষ নিরাপদে, স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হয়েছে। যদিও আমি বলছি যে, দুই-তিনটি দুর্ঘটনা আমাদের ব্যথিত করেছে এবং যেটাকে বলা হয় ভারাক্রান্ত করেছে।
দুর্ঘটনার জন্য আসলে দায়ী কারা?—জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, দুর্ঘটনার জন্য কাউকে বিশেষভাবে দায়ী আমি করতে চাই না। তবে এর সঙ্গে যাদের প্রাথমিক পর্যায়ে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তদন্ত কমিটি করে এগুলো দেখতে হচ্ছে, আর যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা কিন্তু আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছি, ডিপার্টমেন্টাল ব্যবস্থা—যে যেখানে আছে সেটা কিন্তু আমরা নিয়েছি।’
‘যেমন— রেলের আপনি জানেন ওই দুজন গার্ডকে বহিষ্কার করা হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের যে বস ছিল সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, যিনি ওখানে ওই গার্ডগুলো রাখা এবং তারা ফাংশন করছে কিনা, উপস্থিত আছে কিনা—এই যে অফিসারের দায়িত্ব ছিল, তাকেও আমরা চাকরিচ্যুত করে ব্যবস্থা নিয়েছি। অর্থাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রী নিয়ে পদ্মায় ডুবে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না হলে শুধু ওই বাসটি না, ওই কোম্পানির সব বাসের রেজিস্ট্রেশন বা রুট পারমিট বাতিল হয়ে যাবে।
এ সময় দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের তথ্যের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, নিহত হওয়ার সংখ্যা নিয়ে যেটা বলেছেন, আমার মনে হয় যে আপনাদের পরিসংখ্যানের সঙ্গে আমার দ্বিমত হবে। আমরা বিআরটিএ, রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে অথরিটি; সবকিছু মিলিয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তথ্য-উপাত্ত কালেক্ট করি। সেখানে মৃত্যুর সংখ্যা হচ্ছে সড়ক এবং নৌপথে যে দুর্ঘটনাটা ঘটেছে—১৭০ জন আমার কাছে হিসাব আছে। তার মধ্যে মহাসড়কে ৪৭ জন, ২৮ জন হচ্ছে নৌপথে, আর ১৭ জন সম্ভবত রেলপথে। আর বাকিগুলো ধরে নেন এলজিইডি সড়ক বা অন্যান্য দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে ১৭০ জন। ১১ দিনে গত বছর নিহত হয়েছি ১৮৭ জন।
তিনি বলেন, আমি এই পরিসংখ্যান দিয়ে তুলনা করতে চাচ্ছি না, কোনো মৃত্যুই কাম্য না—আমি প্রথমে বলেছি। তবে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি এ কথা বলা ঠিক হবে না, নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, আগের চেয়ে কম হয়েছে, আগামীতে আমরা আরও কম করব। সেই জন্যই কিন্তু আজকের এই প্রস্তুতি সভা, আলোচনা সভা।