নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৫:২২:২৩
গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল পাস
গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩ সংশোধনের জন্য আনা গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩ সংশোধন কল্পে আনা একটি বিল গ্রামীণ ব্যাংক সংশোধন বিল ২০২৬ এই সংসদে উত্থাপনের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করছি।
এরপর ডেপুটি স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে অর্থমন্ত্রী গ্রামীণ ব্যাংক সংশোধন বিল ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করে তা অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
পরে ডেপুটি স্পিকার গ্রামীণ ব্যাংক সংশোধন বিল ২০২৬ অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গ্রহণ করার ভোটে দেন। এরপর বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। বিলটির দফা ওয়ারি কোনো সংশোধন না থাকায় তিনি বিলের দফাগুলো সংসদের সামনে পেশ করেন।
এরআগে, গত বছরে মে মাসে গ্রামীণ ব্যাংক আইন, ২০১৩ সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর গেজেট প্রকাশ করে।
অধ্যাদেশের কারণে গ্রামীণ ব্যাংকের পর্ষদ গঠনে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আসে। সরকার তার মালিকানা ২৫ থেকে কমিয়ে এনেছে ১০ শতাংশে আনে। এতে করে ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকার ৯০ শতাংশ মালিকানা এখন ঋণগ্রহীতা বা শেয়ারহোল্ডারদের হাতে যাবে, যেটি এতদিন ছিল ৭৫ শতাংশ। আর সরকারের অংশীদারত্ব নেমে আসবে ১০ শতাংশে, যা আগে ছিল ২৫ শতাংশ।
এছাড়া ব্যাংকের এমডির বয়স বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৬৫ বছর করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকটির ১৩ সদস্যবিশিষ্ট নতুন পরিচালনা পর্ষদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যিনি গ্রামীণ অর্থনীতি কিংবা নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হবেন অথবা এসব বিষয়ে গবেষণায় অভিজ্ঞ হবেন। তিনি হবেন গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ডের একজন মনোনীত পরিচালক।
নতুন অধ্যাদেশে পর্ষদের বাকি দুটি মনোনীত পদের একটি নির্ধারিত হয়েছে নারী সনদপ্রাপ্ত হিসাববিদের (সিএ) জন্য এবং অন্যটি একজন নারী অধিকারবিষয়ক গবেষক বা আইনজীবী কিংবা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নারী নেত্রীর জন্য। এ তিন মনোনীত পরিচালককে মনোনয়ন দেবেন বাকি নয়জন নির্বাচিত পরিচালক, যারা সবাই গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা (শেয়ারহোল্ডার)। আরেকটি পদে সরকার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে একজন পরিচালক নিয়োগ দেবে। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে সরকারের সদস্য বা পরিচালক ছিলেন এতদিন তিনজন।
আগে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকলেও নতুন অধ্যাদেশ পাস হওয়ার পর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন পর্ষদ সদস্যদের মধ্য থেকে। এমনকি দায়িত্বে অক্ষম হলে চেয়ারম্যানের স্থলাভিষিক্ত কাউকে মনোনয়নের ক্ষমতাও থাকছে না সরকারের হাতে। পর্ষদ সদস্যদের এ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, পরিচালকদের মেয়াদ আগেও তিন বছর ছিল, এখনো তা-ই আছে। একজন পরিচালক পরপর দুই মেয়াদে পরিচালক থাকতে পারবেন। তিন বছরের বিরতি দিয়ে আবার তাদের পরিচালক হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। অধ্যাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির বয়সও সর্বোচ্চ ৬৫ বছর করা হয়েছে, এতদিন যা ছিল ৬০ বছর।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই সপ্তাহ পর গত ২০ আগস্ট গ্রামীণ ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান একেএম সাইফুল মজিদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। তার পরিবর্তে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের শিক্ষক আবদুল হান্নান চৌধুরীকে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়। আবদুল হান্নান চৌধুরী চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েই গ্রামীণ ব্যাংক আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেন, যা এতদিন পর অধ্যাদেশ আকারে জারি হয়েছে।