নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০২:২২:৫০
হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসানের পদত্যাগ
দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মোহাম্মদ রেজাউল হাসান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) তিনি নিজের পদত্যাগপত্র প্রধান বিচারপতির কাছে দিয়েছেন এবং তা পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো একযোগে নিশ্চিত করেছে।
জানা যায়, বিচারপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পরই এই পদত্যাগ এসেছে। শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক তাঁর বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়েছিল, ২০১০ ও ২০১১ সালের দুটি কোম্পানি মামলায় বিচারপতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন এবং সিদ্ধান্তগুলো পরবর্তীতে আপিল বিভাগে বাতিল হয়েছে।
আলোচিত একটি সূত্রে আরও জানা গেছে যে, বিচারক নিজের প্রভাব খাটিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে ফোন করে নির্দিষ্ট মামলায় ছেলেকে আসামি না করার জন্য চাপ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া অনেকে দাবি করেছেন, ব্যক্তি বিশেষের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে রায় বদলানো হয়েছে এমন অভিযোগও ছিল।
পদত্যাগের আগেই তাঁর বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্ত শুরুর কথা কথিত ছিল এবং কিছু সময়ের জন্য তিনি বিচারিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে নিজ থেকে পদত্যাগ করায় এই ইস্যুটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এ নিয়ে আইনের পেশাজীবী সমাজ ও বিচার বিভাগে বিভিন্ন মতামত প্রকাশিত হয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তা হলে বিচারব্যবস্থা এবং সামগ্রিক মানবাধিকার ব্যবস্থায় মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে। অপরদিকে অনেকে মনে করেন, পদত্যাগ নিজেই বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষার একটি পদক্ষেপ হতে পারে।