নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৫:১৭:৩৫
দাউদকান্দি বিএনপির কাউন্সিল ১ আগস্ট
আগামী ১ আগস্ট শনিবার কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল-২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন বিএনপির সকল সদস্য কাউন্সিলরদের (ভোটার) অংশগ্রণে শহীদনগর এম.এ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই কাউন্সিল (নির্বাচন) অনুষ্ঠিত হবে। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৭১ সদস্য বিশিষ্ট ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি। তাদের প্রত্যক্ষ ভোটেই নির্বাচিত হবে দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব।
দীর্ঘ ১৭ বছর পরে অনুষ্ঠিতব্য এই কাউন্সিলকে ঘিরে তৃণমূলের নেতাকর্মীগণ খুবই উচ্ছ্বসিত, আনন্দিত। কাউন্সিলের আয়োজন করায় মাঠ পর্যায়ের নেতারা স্থানীয় সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড.খন্দকার মারুফ হোসেনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
দাউদকান্দি বিএনপির কাউন্সিল যতোই ঘনিয়ে আসছে, ১৫টি ইউনিয়নে বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে আবেগ উচ্ছ্বাস ততোই বাড়ছে। সর্বত্র এখন উৎসবের আমেজ বিরাজমান। ভোটারদের সমর্থন পেতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের সম্ভাব্য প্রার্থীগণ ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় প্রতিদিনই ঘরোয়া সভা ও গণসংযোগে খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন এক প্রতিক্রিয়ায় দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির কাউন্সিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় শামিল হওয়ার জন্য তৃণমূলের কাউন্সিলরদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখে ড. খন্দকার মারুফ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগ করে দলের নেতা নির্বাচিত করা, গণতন্ত্রের অপার সৌন্দর্য এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিএনপি সর্বদাই এমন গণতন্ত্র চর্চায় বিশ্বাসী। দাউদকান্দি বিএনপির এই কাউন্সিল আগামীর রাজনীতিতে উদাহরণ হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে সরকার দেশের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন। দেশ দ্রুতই এগিয়ে যাচ্ছে। দেশে এখন সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজমান। তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবিতে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দাউদকান্দি বিএনপির এই দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলের আয়োজন করা হয়েছে।
বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মারুফ বলেন, আগামী ১ আগস্ট অত্যন্ত আনন্দমূখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কাউন্সিলরগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের জুলুম নিপীড়ন ও দু:শাসনের কারণে বিএনপির কাউন্সিল করা সম্ভব হয়নি। আগামী দিনে দাউদকান্দি বিএনপিকে আরও বেশি শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত করতে কারা নেতৃত্বে আসবেন? ১৫টি ইউনিয়ন বিএনপির কাউন্সিলরগণ গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সেই নেতৃত্ব তৈরী করবেন।
উল্লেখ্য, কাউন্সিল অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি খুবই তৎপর। নিরপেক্ষভাবে কাউন্সিল (নির্বাচন) পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট শেখ জুলফিকার আলম শিমুলকে প্রধান করে ৫ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক মো. আক্তারুজ্জামান সরকার ও সদস্য সচিব এ.এফ.এম তারেক মুন্সী গঠিত নির্বাচন কমিশনকে অনুমোদন দিয়েছেন। এই নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা প্রকাশ, মনোনয়নপত্র বিক্রি, জমা গ্রহণ, বাছাই ও প্রত্যাহার এবং প্রতীক বরাদ্দের কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন করবেন।
দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলকে ঘিরে ১৫টি ইউনিয়নের সর্বত্র বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। চা'য়ের দোকান, সড়কের মোড়, হাটবাজারে ব্যাপক আলোচনা জমে উঠেছে। প্রার্থীর যোগ্যতা, দলের জন্য ত্যাগ ও নিবেদিত প্রাণকর্মী কি না, এইসব চুলচেড়া বিশ্লেষণ চলছে। বিশেষ করে দাউদকান্দি বিএনপির নতুন কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কে নির্বাচিত হচ্ছে ? এটিই এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়। এই ২টি পদে একাধিক প্রার্থী মাঠে দৃশ্যমান। বিএনপির গঠনতন্ত্র মোতাবেক প্রতিটি ইউনিয়ন বিএনপির ৭১জন সদস্যই কাউন্সিলর (ভোটার)। গঠনতন্ত্র অনুসরণ করেই দাউদকান্দিতে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তৃণমূল নেতারা জানান, কাউন্সিলে তাদের মূল্যায়ন হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পরে হলেও কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে উপজেলার সিনিয়র নেতারা ভোট পেতে তাদের কাছে টানছেন, সন্মান দিচ্ছেন, পরিবারের ভালো মন্দখোঁজ খবর নিচ্ছেন। এই এক অন্যরকম অনুভূতি। ভাবতেই ভালো লাগছে। কাউন্সিলের সার্বিক সফলতা কামনা করছি।