নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ০২:১৩:০১
গণপরিবহনে জিপিএস: অগ্রণী ভূমিকায় ডুপনো ট্র্যাকার
গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনে জিপিএস ট্র্যাকার বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। লক্ষ্য, প্রতিটি বাস ও ট্রাকের অবস্থান, গতি ও চলাচলের তথ্য এক জায়গায় আনা। এতে বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ, রুট মেনে চলা আর দুর্ঘটনার পর দায় নির্ধারণ সহজ হবে।
উদ্যোগ বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) লাইসেন্সপ্রাপ্ত ভেহিকল ট্র্যাকিং সার্ভিস (ভিটিএস) প্রতিষ্ঠানগুলোর। তারা গাড়িতে যন্ত্র বসাবে, আর সেই যন্ত্রের তথ্য এপিআইয়ের মাধ্যমে পৌঁছাবে বিআরটিএর সার্ভারে। এ জন্য এপিআই-সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকাও প্রকাশ করেছে বিআরটিএ।
তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এই কাজে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে ডুপনো ট্র্যাকার। দেশের পরিচিত এই ভেহিকল ট্র্যাকিং সার্ভিসের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডুপনো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে বিটিআরসির লাইসেন্স নিয়ে কাজ করছে। ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে শুরু করে বড় কোম্পানির গাড়ির বহর — সব ধরনের গ্রাহকই আছে তাদের।
উদ্যোগের আসল চ্যালেঞ্জ ঢাকার বাইরে। জেলা শহর, মহাসড়কের পাশের টার্মিনাল আর বন্দরনগরীর ট্রাকস্ট্যান্ডে হাজারো গাড়িতে যন্ত্র বসানো এবং পরে নিয়মিত সেবা দেওয়া — কাজটা এখানেই কঠিন।
ডুপনো ট্র্যাকার জানিয়েছে, দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে তাদের অফিস ও ইনস্টলেশন কেন্দ্র রয়েছে। ফলে রাজশাহী, খুলনা বা সিলেটের একজন বাসমালিককে যন্ত্র বসাতে বা সারাতে ঢাকায় আসতে হচ্ছে না। বড় বহরের ক্ষেত্রে ডিপো বা টার্মিনালে গিয়েই কাজ করছে তাদের দল।
ডুপনো ট্র্যাকারের মুখপাত্র বলেন, “গণপরিবহনে জিপিএস আমাদের জন্য নতুন কাজ নয়। বিআরটিএর নির্দেশনার আগে থেকেই আমরা বাস, ট্রাক আর বিভিন্ন কোম্পানির গাড়িতে ট্র্যাকিং সেবা দিচ্ছি। এখন সারা দেশে একসঙ্গে সেবা দিতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।”
তিনি আরও বলেন, “যন্ত্র বসানোই শেষ কথা নয়। গাড়ির তথ্য নিয়মিত বিআরটিএর সার্ভারে যাচ্ছে কি না, যন্ত্রে সমস্যা হলে কত দ্রুত সমাধান হচ্ছে — আসল পরীক্ষা সেখানেই। মালিক যেন নিজের জেলাতেই সেবা পান, আমরা সেভাবেই কাজ করছি।”
নিয়ম মানার বাইরেও ট্র্যাকারে মালিকের সরাসরি লাভ আছে। গাড়ি কোথায়, কত গতিতে চলছে, কোথায় কতক্ষণ থেমেছিল — সব মোবাইলেই দেখা যায়। অতিরিক্ত গতি বা নির্ধারিত এলাকার বাইরে গেলে সতর্কবার্তা আসে, আর গাড়ি চুরি হলে দূর থেকে ইঞ্জিন বন্ধ করা যায়। একই প্ল্যাটফর্মে এআই ড্যাশক্যাম ও ফুয়েল মনিটরিং যোগ করার সুযোগও রাখছে ডুপনো ট্র্যাকার।
যাত্রীদের জন্যও এর সুফল আছে। বাসের গতি ও রুট নজরদারিতে থাকলে বেপরোয়া চালানো কমে, আর দুর্ঘটনার পর কোন গাড়ি কত গতিতে ছিল তা-ও জানা যায়।
খাতসংশ্লিষ্টরা মালিকদের আগে দুটি বিষয় যাচাই করতে বলছেন: প্রতিষ্ঠানটির বিটিআরসি লাইসেন্স আছে কি না, আর নিজের এলাকায় তাদের অফিস বা সার্ভিস পয়েন্ট আছে কি না। কারণ যন্ত্র বসানোর পরেও বছরের পর বছর সেবা লাগবে। বাস-ট্রাকের জন্য ডুপনো ট্র্যাকারের সেবার বিস্তারিত পাওয়া যাবে তাদের ওয়েবসাইটে।