নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৩:২৩:৪৮
চ্যানেল এস-এ সংবাদ প্রচারের পর ফায়ার সার্ভিসের চালক সাখাওয়াত সাময়িক বরখাস্ত, ডিজি ও পরিচালকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ
বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে চ্যানেল এস-এ সংবাদ প্রচারের পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের চালক মো. সাখাওয়াত হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ১ জুলাই (বুধবার) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও শাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন এবং কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহেদ কামাল এবং পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) শহীদ আতাহার হোসেনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
ফায়ার সার্ভিসের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মহাপরিচালক ও পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)-এর নামে পোস্টার টানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালে তাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান প্রশাসনের নেতৃত্বে নিয়োগ ও বদলি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে অতীতে কথিত নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত একটি সিন্ডিকেট তাদের স্বার্থ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সেই চক্রই এখন অপপ্রচারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
তাদের দাবি, অতীতে ওই চক্রের সদস্যরা নিয়োগ ও বদলিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলেও বর্তমান মহাপরিচালক এবং পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) কোনো ধরনের অনৈতিক সুপারিশ বা তদবির গ্রহণ করেননি। ফলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন এবং কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
একজন কর্মকর্তা বলেন, “বর্তমান প্রশাসনের অধীনে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কোনো ধরনের নিয়োগ বাণিজ্যের সুযোগ না থাকায় একটি অসাধু চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মহাপরিচালক ও পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)-এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।”
অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র আরও জানায়, এসব অপপ্রচারের প্রতিবাদে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সিনিয়র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তারা দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছ প্রশাসনিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ধারাবাহিকভাবে গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে, শাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে শাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে—এমন যেকোনো অপপ্রচার, গুজব বা বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।