মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬ রাত ০৭:৫৩:৫৭
মাদক ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে শ্রীমঙ্গলে মতবিনিময় সভা ও সংবাদ সম্মেলন
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মাদক, চাঁদাবাজি, হত্যা, ধর্ষণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নাগরিক পরিষদ। রোববার (১৭ মে) শহরের গ্র্যান্ড তাজ রেস্টুরেন্টের দ্বিতীয় তলায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের সেক্রেটারি ও সাবেক মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা নাগরিক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মোসাব্বির আল মাসুদ। তিনি অভিযোগ করেন, শ্রমিকদল ও দলীয় নেতাদের নাম ভাঙিয়ে একটি চক্র মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত।
তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় গত ২৭ মার্চ শ্রীমঙ্গলের আলিশারকুল এলাকায় ফুলমতি ও শিশু জুনাইদ (৯) মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে নিহত হয়। এ ঘটনায় লুৎফুর রহমান, বাবুর মিয়াসহ আরও কয়েকজন আহত হন।
মোসাব্বির আল মাসুদ অভিযোগ করেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর ছত্রছায়ায় পৌর শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক, জালালিয়া রোডের নূরে আলম, আশিদ্রোণ নোয়াবাড়ির শামীম আহমেদ এবং খাসগাঁওয়ের ফয়েজ মিয়া বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করেন।
তিনি দাবি করেন, স্টেশন রোডের ফুটপাতের প্রতিটি দোকান ও ভ্যান থেকে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা করে আদায় করা হয়। এছাড়া এসএ পরিবহন থেকে মাসিক ৫০ হাজার টাকা এবং কয়েকজন কথিত মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকেও মাসিক চাঁদা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পোস্ট অফিস রোড ও পৌরসভার মামলাকৃত জায়গার ওপর নির্মিত ২০-২৫টি কক্ষ থেকে মাসিক প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মোসাব্বির আল মাসুদ বলেন, গত ১৮ এপ্রিল ‘সিলেটের নিউজ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে সংবাদ প্রকাশ করা হয় যে, রুহেল ও আল-আমিনকে তাকে এবং আরও কয়েকজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভাড়া করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি সবসময় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছি। একাধিকবার লাইভে এসে এসব বিষয়ে কথা বলেছি। সে কারণেই মাদক ব্যবসায়ীরা আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি লেবু বাজারে পরিবহন ব্যবসা শুরু করতে গেলে গত ৬ মে রাতে সিলেটগামী একটি লেবুবাহী গাড়ি আটকে তার কর্মচারী পারভেজের কাছ থেকে জোরপূর্বক ৪ হাজার ৩০০ টাকা আদায় করা হয়।
এছাড়া জমশেদ এন্টারপ্রাইজের মালিক জমশেদের কাছ থেকেও চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ৮ মে সন্ধ্যায় পৌর শ্রমিকদলের সেক্রেটারি মো. ফারুক এক আড়তদারকে বিএনপির আহ্বায়ক নূরে আলম সিদ্দিকীর অফিসে নিয়ে যান। সেখানে ব্যবসা নিয়ে আলোচনা হয় এবং পরে সিলেট লাইনের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। সম্প্রতি কয়েক কোটি টাকার মাদক জব্দ করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
অভিযোগের বিষয়ে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মুজিবুর রহমান মুজিব বলেন, “যিনি সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তিনিই মাদকের চাঁদা তোলেন। আর কে আমার ছবি টাঙিয়ে লাইভ করলো, সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। সেটি আমার অফিস নয় এবং আমি কখনো শ্রমিকদলের অফিসে যাইনি।”