দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে অপরাধ দমন অপরিহার্য: ড. মোশাররফ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে অপরাধ ও অপরাধীদের দমন করা অপরিহার্য। অপরাধী কোনো দল বা মতের হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নেই। সমাজে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের দমনে বর্তমান সরকারের নীতি ‘জিরো টলারেন্স’।তিনি বলেন, “জনস্বার্থবিরোধী অপরাধীরা যেন আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে রক্ষা না পায়, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।” এ সময় তিনি দাউদকান্দি ও মেঘনা থানার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।বুধবার (২০ মে) কুমিল্লা-১ আসনের মেঘনা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সকালে এবং বিকেলে দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির পৃথক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “বিগত সরকার দুঃশাসন, জুলুম-নিপীড়নের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাত ধ্বংস করে পালিয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যাসিবাদের ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনে তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।”মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার এবং দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার পৃথক সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভাগুলোতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার একেএম শামসুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবুল হাশেম, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম এ লতিফ ভূঁইয়া, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, মেঘনা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা উপ-কমান্ডার মেজবাহ উদ্দিন বায়েজিদ, মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. রমিজউদ্দিন লন্ডনী, সদস্য সচিব এম এম মিজানুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন সরকার ও দিলারা শিরীনসহ অনেকে।সভায় ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, “দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব একমাত্র বিএনপির হাতেই নিরাপদ। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশ ও জনগণের কল্যাণে যুগান্তকারী উন্নয়ন হয় এবং মানুষ নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারে।”তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় এসে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে মানুষ এসব কাজের সুফল পেতে শুরু করেছে। কৃষিতে উৎপাদন বাড়াতে শহীদ জিয়ার প্রবর্তিত ‘খাল খনন কর্মসূচি’ পুনরায় চালু করা হয়েছে। এছাড়া অসহায়, দুস্থ ও কৃষক পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে।”ড. মোশাররফ বলেন, “জনগণের স্বার্থরক্ষায় নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদকাসক্ত, কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের শক্ত হাতে দমন করা হবে।”তিনি জানান, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মেঘনা উপজেলার কিছু এলাকা দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত রয়েছে। এসব এলাকায় নতুন রাস্তা ও প্রয়োজনীয় সেতু নির্মাণের মাধ্যমে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে মানুষ উন্নয়নের সমান সুযোগ পায়।সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা জনগণের সেবক। সেবার মনোভাব নিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করবেন। কোনো ধরনের গাফিলতি বা শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না।”এদিকে, মেঘনা উপজেলা সদরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের মাঝে ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র, স্প্রেয়ার, এলএলপি এবং ক্যানভাস পাইপ বিতরণ করেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।