পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬ রাত ০৮:০৪:৫৩
পবিপ্রবিতে মানববন্ধনে হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মানববন্ধনে হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার দুই দিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা বাদী হয়ে দুমকি থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ২৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই ঘটনায় গোলাম কিবরিয়া নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে এজাহারভুক্ত আসামি এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গোলাম কিবরিয়াকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মুকিত বাদী হয়ে ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। এর ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে এজাহারের ১১ নম্বর আসামি গোলাম কিবরিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। এ সময় একদল বহিরাগত সেখানে হামলা চালায়। হামলায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা আন্দোলনকারীদের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে।
এদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল, কৃষকদল ও শ্রমিক দলের মোট নয় নেতাকর্মীকে দলীয়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা বলেন, একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। তারা হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।