মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৯ জুলাই ২০২৬ রাত ০৮:০০:১৮
সড়কে ঝাঁকুনিকে কেন্দ্র করে অটোরিকশাচালক কিশোরকে হত্যা, আট দিন পর রহস্য উদ্ঘাটন
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় সড়কের ভাঙাচোরা অংশে অটোরিকশার ঝাঁকুনিকে কেন্দ্র করে ১৬ বছর বয়সী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক সাকিবুলকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার আট দিন পর মূল অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান আসাদকে (৩৪) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে পিবিআই মানিকগঞ্জ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামান আসাদ সিংগাইর উপজেলার জামশা ইউনিয়নের গোলাই নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তিন সন্তানের জনক এবং সাভারের একটি হোটেলে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিহত সাকিবুল মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের রহমত আলীর ছেলে।
পিবিআই জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় সাভারের হেমায়েতপুরের যাদুরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
তদন্তে জানা গেছে, গত ৩০ জুন কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বৃষ্টির কারণে মিতরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ফার্মেসিতে আশ্রয় নেন আসাদ। পরে বৃষ্টি কমলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সাকিবুলের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় গোলাই নতুনপাড়া যাওয়ার জন্য ওঠেন।
পথে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা অংশ থাকায় অটোরিকশায় বারবার ঝাঁকুনি লাগে। এতে বিরক্ত হয়ে চালককে ধীরে চালাতে বলেন আসাদ। একপর্যায়ে ঝাঁকুনিতে তিনি আসন থেকে পড়ে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে পেছন থেকে সাকিবুলকে থাপ্পড় মারেন। এতে অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছে গিয়ে আটকে যায়।
এরপর দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পাটক্ষেতে পড়ে যান। সেখানে আসাদ সাকিবুলকে মারধর করেন। পরে তার মুখ কাদার মধ্যে চেপে ধরে এবং ঘাড়ে চাপ প্রয়োগ করলে শ্বাসরোধে ঘটনাস্থলেই সাকিবুলের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় আসাদের এক পায়ের স্যান্ডেল সেখানে পড়ে থাকে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পিবিআই জানায়, সাকিবুলের বাবা রহমত আলী অসুস্থ থাকায় ওই দিন বাবার অটোরিকশা চালাতে বের হয়েছিল সাকিবুল। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরদিন ১ জুলাই সিংগাইর উপজেলার জামশা ইউনিয়নের গোলাই নতুনপাড়া এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ২ জুলাই নিহতের বাবা সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী জানান, তদন্তের শুরুতেই মিতরা বাসস্ট্যান্ড এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ ব্যক্তিগত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে দাবি করেছেন। তাকে আদালতে হাজির করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।