মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৪:৩০:১৪
কুলাউড়ায় গোগালীছড়ার বাঁধ ভেঙে ১৫ গ্রাম প্লাবিত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের চাপে গোগালীছড়ার বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ফসল, মৎস্য খামার ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জানা যায়, কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের গাজিপুর এলাকায় গোগালীছড়ার প্রায় ১৫০ ফুট বাঁধ ভেঙে গেলে আশপাশের গ্রামগুলোতে পানি ঢুকে পড়ে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজিপুর গ্রামেই প্রায় ২০ বিঘা বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে গত সোমবার রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কুলাউড়ার শমশেরনগর, পতনঊষার ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে গাছপালা ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনে বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়ায় অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার পূর্ব নন্দীউড়া ও ভুজবল গ্রামে উদনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার, আদমপুর ও পতনঊষার ইউনিয়নে জলাবদ্ধতায় নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকাও পানির নিচে রয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রাম চন্দ্র পাল, জমির মিয়া ও রবি দত্ত জানান, ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করলেও হঠাৎ বন্যায় তাদের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক কৃষক বুকসমান পানিতে নেমে আধাপাকা ধান কাটার চেষ্টা করছেন।
পানিবন্দী কাওছার আহমেদ বলেন, “দুই দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে, বিদ্যুৎও নেই। বোরো ধান সব নষ্ট হয়ে গেছে।”
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কয়েকটি প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। উজানে অতিবৃষ্টি হলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
মৌলভীবাজার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, “জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের মাজডিহী চা বাগান এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে কয়েকটি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ২০টি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বাঁধ মেরামত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।