সারাদেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে আনার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের পদ্মা হলে প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও উন্নত করতে হলে বেসরকারি খাতের কার্যক্রমের ওপর বিশেষ নজর দিতে হবে। তিনি বলেন, আপনাদের (প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন) সহযোগিতায় আমরা মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই।তিনি আরও বলেন, অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত ক্লিনিকের কারণে অনেক সময় সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন। তাই এসব প্রতিষ্ঠানকে যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস (ডাম্বেল)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব ডা. এ এম শামীম, ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন।অনুষ্ঠানে প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
কর্মক্ষেত্রে নিষ্ঠা ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের কর্মকর্তা মো. হিরো মিয়াকে পুরস্কৃত করেছে বারাকাহ স্পেশালাইজড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রফেসর ডা. এম. ফখরুল ইসলাম তার হাতে সম্মাননা স্বরূপ একটি চেক তুলে দেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বারাকাহ স্পেশালাইজড হাসপাতালের প্রজেক্ট ডিরেক্টর প্রফেসর ডা. নওফেল ইসলাম, ফাইন্যান্স ডিরেক্টর আবু বকর ছিদ্দিক, প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ও কোম্পানি সচিব মো. আলতাফ হোসেন, মো. শহিদুল ইসলাম সাইদ, মো. নজরুল ইসলাম শাওন এবং ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার এইচ এম দুলালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কর্মক্ষেত্রে নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার মাধ্যমে মো. হিরো মিয়া হাসপাতালের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তার এই অর্জন অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতেও কর্মীদের ভালো কাজের স্বীকৃতি দিয়ে উৎসাহিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
১ সপ্তাহ আগে
অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজধানীর কড়াইল বস্তি পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। শনিবার (৭ মার্চ) তিনি বস্তি এলাকায় সিএসএফ গ্লোবাল ও ‘আলো ক্লিনিক’-এর বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।পরিদর্শনের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী কড়াইল বস্তিতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য নির্মিত আধুনিক ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ‘আলো ক্লিনিক’ পরিদর্শন করেন। সেখানে প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা ব্যবস্থা দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।ক্লিনিকের ডিজিটাল ডাটাবেজ, রোগী নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং পেপারলেস প্রেসক্রিপশন পদ্ধতির প্রশংসা করে ড. এম এ মুহিত বলেন, “বস্তিবাসীর জন্য এমন আধুনিক ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সত্যিই অনুকরণীয় উদ্যোগ।” এ সময় তিনি ডিজিটাল সিস্টেমে রোগীর পরীক্ষার রিপোর্ট ও চিকিৎসা-ইতিহাস সংরক্ষণের কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করেন।পরবর্তীতে তিনি এনজিও সিএসএফ গ্লোবাল পরিচালিত প্রতিবন্ধী শিশুদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিদর্শন করেন। সেখানে স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি তাদের ‘হিউম্যান ব্রিজ’ বা ‘মানবিক সেতু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।ড. এম এ মুহিত বলেন, “প্রতিবন্ধী হওয়া কোনো সমস্যা নয়; আসল সমস্যা হলো সমাজের বিভিন্ন স্তরে সৃষ্টি হওয়া প্রতিবন্ধকতা। সমাজের মূল ধারায় প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আসার পথে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব বাধা আমাদের সম্মিলিতভাবে দূর করতে হবে।”প্রতিবন্ধী শিশুদের মেধা বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, “আমাদের বিশেষায়িত শিশুদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসতে হবে। সরকার ও এনজিওগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”পরিদর্শনকালে সিএসএফ গ্লোবাল ও আলো ক্লিনিকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
১ সপ্তাহ আগে
দেশের হৃদরোগ চিকিৎসায় যুক্ত হলো এক নতুন মাইলফলক। চীন সরকারের সৌজন্যে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে (NICVD) শুক্রবার রাত ৩ টায় (৬ই মার্চ২০২৬) এসে পৌঁছেছে একটি অত্যাধুনিক মোবাইল সার্জিক্যাল ইউনিট। যার মাধ্যমে এখন দুর্গম অঞ্চলেও পৌঁছে যাবে হার্টের জটিল অস্ত্রোপচারের সুবিধা।জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সামনে অপেক্ষমান এই বিশাল ১২ চাকার যানটি আসলে একটি পূর্ণাঙ্গ ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল।গাড়ীটিতে রয়েছে ৫০০ লিটার ডিজেল ধারন করার ক্ষমতা। জানা যায়, ১ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা কর ধার্য করা হলেও চীন ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ সহযোগিতায় মাত্র ৯৪ হাজার টাকা কর প্রদান করে একমাত্র গাড়িটি জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সামনে এসে পৌঁছায়। চীন সরকারের 'চায়না ফাউন্ডেশন ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট' (CFRD) থেকে উপহার হিসেবে এটি সম্প্রতি বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। নিরাপত্তার জন্য আপাতত জাল দিয়ে ঢেকে রাখা এই ইউনিটের ভেতরে রয়েছে হার্ট সার্জারির জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক অপারেশন থিয়েটার ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। গাড়িটির গায়ে থাকা বাংলাদেশ ও চীনের পতাকা দুই দেশের বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল নিদর্শন বহন করছে।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এই মোবাইল ইউনিটের মাধ্যমে এখন আর রোগীদের সব সময় হাসপাতালের চার দেয়ালের ভেতর চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। এর প্রধান সুবিধাগুলো হলো—এটি একটি চলন্ত অপারেশন থিয়েটার যা দেশের যেকোনো প্রান্তে গিয়ে হার্টের জটিল সার্জারি করতে সক্ষম। এর ভেতরে রয়েছে উন্নত ভেন্টিলেটর, পেশেন্ট মনিটর এবং জীবনদায়ী সব আধুনিক যন্ত্রপাতি। এমনকি জরুরি শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য এখানে রয়েছে নেবুলাইজেশনের বিশেষ সুবিধা। হার্টের রোগীদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় ওষুধ যেমন—কারভিস্টা বা জারডিয়ানের মতো দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার পাশাপাশি জরুরি সেবা দিতেও এটি প্রস্তুত। মাত্রই দেশে আসা এই মোবাইল ইউনিটটি যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়, তবে ঢাকার বাইরের সাধারণ রোগীরা নিজ এলাকাতেই উন্নত হৃদরোগের চিকিৎসা পাবেন। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুতই এই জীবনদায়ী সেবাটি রাস্তায় নামবে এবং মানুষের প্রাণ বাঁচাতে ভূমিকা রাখবে।
১ সপ্তাহ আগে