আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে সাংবিধানিকভাবে জারি করা প্রত্যেকটি অধ্যাদেশই বিল আকারে সংসদে পেশ করা হবে। আগামী সংসদ প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে সাংবিধানিকভাবে যে ১৩৩ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে তার প্রত্যেকটিই পেশ করা হবে।২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।আইনমন্ত্রী বলেন, চাঞ্চল্যকর নরসিংদীর ধর্ষণ মামলায় যারা জড়িত তাদের যদি কেউ আশ্রয় দেয়, তাদের শেকড় ধরে উপড়ে ফেলা হবে। তিনি বলেন, মামলারজট আমাদের দেশে একটা প্রকট সমস্যা। সেইটা নিরসন করতে যা যা করতে হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় যতটুকু তৎপর ছিলাম, এখানে তার থেকে এক ডিগ্রি বেশি হলেও তৎপরতা দেখতে পাবেন । এ সময় জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, রাশেদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন কৌশলগত শহরে আকস্মিক ও ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার ভোরে পরিচালিত এই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয়ের অত্যন্ত নিকটবর্তী এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা নিশ্চিত করেছে। তেহরানের কেন্দ্রস্থল থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণে পুরো শহর কেঁপে ওঠে এবং আকাশের বিশাল অংশ ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ইরানি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, তেহরানের জনবহুল ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট এবং প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জোমহুরি এলাকায় বেশ কয়েকটি ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পরপরই ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকাটি দ্রুত ঘিরে ফেলে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ শুরু করে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা আসেনি, তবে খামেনির কার্যালয়ের কাছে বিস্ফোরণের বিষয়টি দেশটির সার্বভৌমত্বের ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।এদিকে, তেহরানে হামলার সমান্তরালে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিজ দেশের জনগণের জন্য সর্বোচ্চ জাতীয় সতর্কতা জারি করেছে।সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা হামলার আশঙ্কায় সমগ্র ইসরায়েলজুড়ে বর্তমানে ‘জরুরি অবস্থা’ বলবৎ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইডিএফ জানিয়েছে, গত কয়েক মিনিটে ইসরায়েলের প্রায় প্রতিটি শহরে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠেছে। নাগরিকদের মোবাইল ফোনে সরাসরি জরুরি বার্তা পাঠিয়ে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ের কাছে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের পাশ থেকে দুটি কাটা হাত এবং স্কাউট ভবনের পাশ থেকে একটি কাটা পা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওবায়দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির দেহের অংশ এগুলো।২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাত ২টার দিকে পা এবং শনিবার সকালে কাটা দুই হাত উদ্ধার করে পুলিশ।পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল খান জানান, বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ও উত্তর গেটের মাঝামাঝি এলাকায় রাস্তায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দুটি হাত পাওয়া যায়। এছাড়া স্কাউট ভবনের সামনের রাস্তা থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিচ্ছিন্ন পা। তিনি জানান, পরে হাতের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে জানা যায়, ওবায়দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির দেহের অংশ এই হাত ও পা। তার বাড়ি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায়। দেহের অংশ বিশেষ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল (ঢামেক) কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দেহের বাকি অংশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
রামপুরা, নরসিংদীসহ নির্বাচন পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুদের নির্যাতন, হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতসহ ১০ দফা দাবি জানিয়ে রাজপথে নেমেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার করে অপরাধীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের এবং যে প্রভাবশালী চক্র অপরাধীদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগ আয়োজিত এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এ সব দাবি তুলে ধরেন তারা।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিশু ও নারী নির্যাতনের অধিকাংশ ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের দ্বারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা জানার পর দেখি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের তৎপরতা শুরু করে। আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, রাষ্ট্র নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগ এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।মানববন্ধনে ‘ধর্ষক-খুনির কোনো ছাড় নেই, বাংলার মাটিতে তাদের ঠাঁই নেই’, ‘অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়, অপরাধীর কোনো রেহাই নয়’, ‘রামপুরা থেকে নরসিংদী বিচার চাই নিরবধি’, ‘সহনশীলতা চাই বিদ্বেষ নয়’, ‘প্রশাসনের জবাবদিহি চাই নিরাপদ দেশ গড়তেই হবে ভাই’, ‘নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও নীরবতা ভেঙে আওয়াজ তোলো’, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ করো দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করো’, ‘নারীর নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায় অবহেলা আর চলবে না ভাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন তারা।মানববন্ধনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মার্জিয়া বেগম বলেন, নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। নির্বাচনের দিন থেকেই স্বাধীন ভোটাধিকার প্রয়োগের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীরা পাশবিকতার শিকার হয়েছেন। ক্রমবর্ধমান এই পরিস্থিতি ও সহিংসতায় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজধানীসহ সারা দেশের দুষ্কৃতকারীরা অপরাধ সংঘটিত করে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে শিশুরাও এমন মানুষরূপী হায়নার কাছ থেকে বাঁচতে পারছে না।তিনি বলেন, এসব ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে গ্রেপ্তার করে কিছু সময়ক্ষেপণ করা হয়। আসল দোষীদের আমরা শাস্তি দিচ্ছি না। এটা একদিন নয়, একাধিকবার হচ্ছে এ থেকে আমাদের সতর্ক হওয়া দরকার। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই নারী নির্যাতন শিশু নির্যাতন বন্ধের জন্য জোর দাবি জানিয়েছে। আসুন মানবতা ও ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারী শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হলো– নৈতিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে রাষ্ট্রকে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে; অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; রাজনৈতিক পরিচয়ের জের ধরে দুর্বৃত্তের তাণ্ডব কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না; এ ধরনের বর্বরতাকে রুখতে রাষ্ট্রকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে; নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া।এছাড়া প্রতিটি মা বোন ও শিশুর নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে; গ্রেপ্তার অপরাধীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; যে প্রভাবশালী চক্র অপরাধীদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে; মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি তদন্ত করে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে এবং শিশু নিরাপত্তা ও ধর্ষণ-নির্যাতন প্রতিরোধে রাষ্ট্রকে কার্যকর কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তিন মাসের বকেয়া বেতন, শ্রমিক ছাঁটাই ও নির্যাতনের প্রতিবাদে বি-ব্রাদার্স গ্রুপ নামে একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল থেকে তারাবো পৌরসভার মৈকুলি এলাকায় উত্তেজিত শ্রমিকেরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে। এতে সড়কের উভয় পাশে প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রী ও পথচারীরা।শ্রমিকেরা জানান, কারখানাটিতে ২ হাজারের অধিক শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন। তাঁরা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। মালিকপক্ষ কয়েক দিন ধরে আশ্বাস দিয়ে টালবাহানা করছে। প্রতিবাদকারী শ্রমিকদের আটকে রেখে নির্যাতন ও ছাঁটাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।শনিবার সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকেরা কারখানায় কাজে যোগ না দিয়ে সাড়ে ৮টায় বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে সাড়ে ১০টার দিকে রূপগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পুলিশ শ্রমিক ও মালিকপক্ষকে নিয়ে কয়েক দফা সমঝোতার বৈঠক করে। কিন্তু বকেয়া বেতন, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ ও ছাঁটাইয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত মীমাংসা না হওয়ায় শ্রমিকেরা এখনো সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। এই বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
কবি মোহন রায়হানকে আগামী ২ মার্চ সোমবার সকাল ১১টায় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হবে।২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কবি মোহন রায়হানকে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৬ প্রদানের ঘোষণা দেওয়ার পর বিভিন্ন পত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিরূপ সমালোচনা হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে এ পুরস্কার প্রদান স্থগিত রেখে অভিযোগ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উত্থাপিত অভিযোগ পর্যালোচনার জন্য গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।ওই সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগসমূহ পর্যালোচনান্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতিক্রমে কবি মোহন রায়হানকে ২০২৬ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আগামী ২ মার্চ ২০২৬, সোমবার সকাল ১১টায় বাংলা একাডেমিতে তাকে এ পদক প্রদান করা হবে।
সড়ক, পরিবহন ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, পরিবহন সেক্টরকে বলে দিয়েছি ঈদে ভাড়া বাড়বে না। যারা ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল ও নির্মাণাধীন খানপুর আইসিটি অ্যান্ড বাল্ক টার্মিনাল, ড্রেজার বেইড এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নারায়ণগঞ্জের নদীবন্দরের মাছঘাট এলাকায় নির্মিতব্য টার্মিনাল ভবন পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।শেখ রবিউল আলম বলেন, আমরা আশা করছি ঈদযাত্রা স্বস্তির ও নিরাপদ হবে। যেসব জায়গায় ব্যত্যয় ঘটতে পারে, যেখানে যানজট তৈরি হয়, সড়কে শৃঙ্খলা থাকে না, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন, আমি নিশ্চিত করতে চাই এবার সবকিছু সুন্দরভাবে হবে। ট্রাফিক পুলিশ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সব সংস্থা এবার তৎপর থাকবে।শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, নদী দূষণের ব্যাপারে আমরা পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে জানাব। আমাদের জায়গা থেকেও কিছু করণীয় আছে। সেগুলো চিহ্নিত করে আমাদের পক্ষ থেকে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া দরকার, সেগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে নেব। এ সময় প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রমজানের দ্বিতীয় জুমায় অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে কড়া নিরাপত্তা ও চলাচলে কঠোর সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আল আকসা প্রাঙ্গণে অন্তত এক লাখ ফিলিস্তিনি নামাজ আদায় করেছেন। যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় উপস্থিতি কম থাকলেও চোখে পড়ার মতো ছিল ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল।ফিলিস্তিনের ওয়াকফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক শায়খ আজ্জাম আল খতিব বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে এ তথ্য জানান।স্থানীয় সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পুরনো শহরের প্রবেশপথ, আশপাশের এলাকা ও অলিগলি এবং আল আকসার বাইরের ফটকগুলোতে ইসরায়েলি পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। হাজার হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশও।কড়া নিরাপত্তা সত্ত্বেও শুক্রবার ভোর হওয়ার আগেই মুসল্লিরা মসজিদমুখী হতে শুরু করেন। তবে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে পূর্ব জেরুজালেমে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। শহরের চারপাশের সামরিক চেকপোস্টগুলোতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।ইসরায়েলি বাহিনী পূর্ব জেরুজালেমমুখী পশ্চিম তীরের চেকপোস্টগুলোতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে। শুক্রবার ভোর থেকে পূর্ব জেরুজালেমের উত্তরে কালান্দিয়া সামরিক চেকপোস্টে জড়ো হন হাজারো ফিলিস্তিনি, তারা সবাই জুমার নামাজ আদায়ের জন্য শহরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন।কিন্তু পূর্বনির্ধারিত শর্ত পূরণ হয়নি এমন অজুহাতে অনেককেই ফেরত পাঠানো হয়। কয়েকজন মুসল্লি জানান, ভোরে পৌঁছেও তারা চেকপোস্ট পার হতে পারেননি।রমজান শুরুর আগে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পুরো মাসজুড়ে প্রতি জুমায় সর্বোচ্চ ১০ হাজার ফিলিস্তিনিকে আল আকসায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করে।গত সপ্তাহে রমজানের প্রথম জুমায় প্রায় ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি আল আকসায় নামাজ আদায় করেছিলেন বলে জানিয়েছে ইসলামিক এন্ডাওমেন্টস ডিপার্টমেন্ট। তবে বর্তমান উপস্থিতি যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের রমজানের জুমাগুলোর তুলনায় কম। সে সময় সাধারণত দেড় লাখের বেশি মুসল্লি অংশ নিতেন।রমজানে ঐতিহ্যগতভাবেই পশ্চিম তীর থেকে লাখো ফিলিস্তিনি আল আকসায় আসেন। এতে মসজিদ প্রাঙ্গণ উপচে পড়ে এবং জেরুজালেমের বাজারগুলোতেও বাণিজ্যিক প্রাণচাঞ্চল্য বাড়ে।২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পূর্ব জেরুজালেমে প্রবেশের সামরিক চেকপোস্টগুলোতে কঠোর চলাচল নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।গত দুই বছরে সীমিতসংখ্যক ফিলিস্তিনিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ অনুমতিপত্র নিয়ে শহরে ঢোকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অনেকের অভিযোগ এ ধরনের অনুমতি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড
পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান সংঘাত আফগানিস্তানে মানবিক সংকটের আরও অবনতি ঘটাতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। চলমান এ সংঘাতে এ পর্যন্ত উভয় দেশের অন্তত ৩০০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এ অবস্থায় ইরানসহ বিভিন্ন দেশ উত্তেজনা কমাতে ও সংলাপের মাধ্যমে সংকটের সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছে।২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।ডুজারিক জানান, জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কর্মীরা লক্ষ্য করেছেন আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা ইতোমধ্যে মানবিক সহায়তার প্রয়োজন বোধ করছেন। তারা বছরের পর বছর ধরে চলা সংঘাত, দারিদ্র্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন।তিনি বলেন, প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ পুরুষ, নারী ও শিশু মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে।জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র বলেন, যদি যুদ্ধ চলতে থাকে বা এর তীব্রতা বৃদ্ধি পায়, তবে এ সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।ডুজারিক যোগ করেন, আমরা আমাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। যেখানেই সম্ভব আমরা সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রাখব।আফগান শরণার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জাতিসংঘেরজাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানান, আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে তোরখাম সীমান্ত পারাপারের একটি ট্রানজিট ও অভ্যর্থনা কেন্দ্রে ঘটা একটি ঘটনার খবরে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কর্মীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। ডুজারিক বলেন, আমরা সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো যেন সবসময় সুরক্ষিত থাকে তা নিশ্চিত করার অনুরোধ করছি।২০২৩ সাল থেকে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাদের ৫৩টি শরণার্থী গ্রাম বন্ধ করতে শুরু করে। এরপর থেকে কয়েক লাখ আফগান শরণার্থী পাকিস্তান থেকে নিজ দেশে ফিরে আসতে শুরু করে।অবিলম্বে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান ইউরোপীয় কাউন্সিলেরপাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাত অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিল।এ সংঘাত ওই অঞ্চলে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে বলে এক বিবৃতিতে কাউন্সিল সতর্ক করেছে।শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরের দিকে দেওয়া এ বিবৃতিতে কাউন্সিল কাবুল ও ইসলামাবাদ উভয় পক্ষকে সংলাপে বসার এবং মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার জন্য জোর আহ্বান জানায়।বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং বেসামরিক মানুষের আরও ক্ষতি রোধ করতে সম্ভাব্য সব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।কাউন্সিল আরও জানায়, আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই ‘আফগানিস্তানের ভেতরে বা আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় জর্ডানের সমর্থনজর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘাতের বিষয়টি উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফুয়াদ আল-মাজালি এক বিবৃতিতে বলেন, শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংঘাত ও বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পরিচালিত সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জর্ডান সমর্থন করে। তিনি আরও জানান, জর্ডান এ পরিস্থিতিতে সংযম অবলম্বন, সংলাপ, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও সুপ্রতিবেশীসুলভ নীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।আরব আমিরাতের উদ্বেগপাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের লক্ষ্যে মতভেদ নিরসনে যুক্তি ও প্রজ্ঞাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এবং কূটনৈতিক পথ অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক বিশ্বাস স্থাপনে সহায়তা করতে এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য শান্তি ও উন্নয়ন অর্জনে সমর্থন দিতে প্রস্তুত।আফগান ও সৌদি শীর্ষ কূটনীতিকদের মধ্যে আলোচনাসৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ তার আফগান সমকক্ষ আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে উত্তেজনা হ্রাসের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন।এর আগে শুক্রবার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন।সূত্র: আল জাজিরা এসএম
আবার সোনার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকালে ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে।নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৪১৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০১ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করল বাজুস। এরমধ্যে ২১ বার দাম বাড়ানো হয়েছে। কমেছে মাত্র ১২ বার।
সড়ক, পরিবহন ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, পরিবহন সেক্টরকে বলে দিয়েছি ঈদে ভাড়া বাড়বে না। যারা ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল ও নির্মাণাধীন খানপুর আইসিটি অ্যান্ড বাল্ক টার্মিনাল, ড্রেজার বেইড এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নারায়ণগঞ্জের নদীবন্দরের মাছঘাট এলাকায় নির্মিতব্য টার্মিনাল ভবন পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।শেখ রবিউল আলম বলেন, আমরা আশা করছি ঈদযাত্রা স্বস্তির ও নিরাপদ হবে। যেসব জায়গায় ব্যত্যয় ঘটতে পারে, যেখানে যানজট তৈরি হয়, সড়কে শৃঙ্খলা থাকে না, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন, আমি নিশ্চিত করতে চাই এবার সবকিছু সুন্দরভাবে হবে। ট্রাফিক পুলিশ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সব সংস্থা এবার তৎপর থাকবে।শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, নদী দূষণের ব্যাপারে আমরা পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে জানাব। আমাদের জায়গা থেকেও কিছু করণীয় আছে। সেগুলো চিহ্নিত করে আমাদের পক্ষ থেকে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া দরকার, সেগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে নেব। এ সময় প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রামপুরা, নরসিংদীসহ নির্বাচন পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুদের নির্যাতন, হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতসহ ১০ দফা দাবি জানিয়ে রাজপথে নেমেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার করে অপরাধীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের এবং যে প্রভাবশালী চক্র অপরাধীদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগ আয়োজিত এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এ সব দাবি তুলে ধরেন তারা।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিশু ও নারী নির্যাতনের অধিকাংশ ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের দ্বারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা জানার পর দেখি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের তৎপরতা শুরু করে। আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, রাষ্ট্র নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগ এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।মানববন্ধনে ‘ধর্ষক-খুনির কোনো ছাড় নেই, বাংলার মাটিতে তাদের ঠাঁই নেই’, ‘অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়, অপরাধীর কোনো রেহাই নয়’, ‘রামপুরা থেকে নরসিংদী বিচার চাই নিরবধি’, ‘সহনশীলতা চাই বিদ্বেষ নয়’, ‘প্রশাসনের জবাবদিহি চাই নিরাপদ দেশ গড়তেই হবে ভাই’, ‘নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও নীরবতা ভেঙে আওয়াজ তোলো’, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ করো দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করো’, ‘নারীর নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায় অবহেলা আর চলবে না ভাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন তারা।মানববন্ধনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মার্জিয়া বেগম বলেন, নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। নির্বাচনের দিন থেকেই স্বাধীন ভোটাধিকার প্রয়োগের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীরা পাশবিকতার শিকার হয়েছেন। ক্রমবর্ধমান এই পরিস্থিতি ও সহিংসতায় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজধানীসহ সারা দেশের দুষ্কৃতকারীরা অপরাধ সংঘটিত করে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে শিশুরাও এমন মানুষরূপী হায়নার কাছ থেকে বাঁচতে পারছে না।তিনি বলেন, এসব ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে গ্রেপ্তার করে কিছু সময়ক্ষেপণ করা হয়। আসল দোষীদের আমরা শাস্তি দিচ্ছি না। এটা একদিন নয়, একাধিকবার হচ্ছে এ থেকে আমাদের সতর্ক হওয়া দরকার। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই নারী নির্যাতন শিশু নির্যাতন বন্ধের জন্য জোর দাবি জানিয়েছে। আসুন মানবতা ও ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারী শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হলো– নৈতিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে রাষ্ট্রকে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে; অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; রাজনৈতিক পরিচয়ের জের ধরে দুর্বৃত্তের তাণ্ডব কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না; এ ধরনের বর্বরতাকে রুখতে রাষ্ট্রকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে; নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া।এছাড়া প্রতিটি মা বোন ও শিশুর নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে; গ্রেপ্তার অপরাধীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; যে প্রভাবশালী চক্র অপরাধীদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে; মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি তদন্ত করে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে এবং শিশু নিরাপত্তা ও ধর্ষণ-নির্যাতন প্রতিরোধে রাষ্ট্রকে কার্যকর কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ করতে হবে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে মধ্যরাতে দাদিকে হত্যা করে নাতনিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। ধর্ষণ শেষে নাতনিকেও হত্যা করা হয়। পৃথক দুটি জায়গা থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে দিবাগত মধ্যরাতের কোনো এক সময় উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া এ ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন, ভবানিপুর উত্তরপাড়ার জয়নাল খার মা সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও মেয়ে জামিলা আক্তার (১৫)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান।জানা গেছে, মধ্যরাতে হঠাৎ কান্নাকাটির আওয়াজ শুনে রাস্তায় বের হন স্থানীয়রা। পরে কান্নার আওয়াজ থেমে গেলে তারা বাড়িতে চলে যান। আজ শনিবার সকালে বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। জামিলাকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বিবস্ত্র অবস্থায় সরিষার ক্ষেতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনার সময় মেয়েটির বাবা ঢাকায় আরেক মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে ছিলেন। সোহেল রানা নামের এক নিকট আত্মীয় জানান, গতকাল রাতে ওই মেয়েকে ধর্ষণ করতে আসে। কিন্তু দাদি টের পেয়ে যাওয়াতে দাদিকে হত্যা করে। পরে মেয়েকে অপহরণ করে সরিষা ক্ষেতে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। কে বা কারা এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর ডিফেন্স ফোর্স এফসির বিপক্ষে ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স করলেন ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের ১৬ বছর বয়সী মিডফিল্ডার কাভান সুলিভান। তিনি একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ফুটবলার।২৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুবারু পার্কে রাউন্ড ওয়ান ফাইনালে ৭-০ গোলের জয়ে প্রথমবার সিনিয়র দলের হয়ে জোড়া গোল করলেন এবং দুটি অ্যাসিস্টও রয়েছে তার। দুই লেগে ১২-০ গোলের অগ্রগামিতায় শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ফিলাডেলফিয়া। প্রথম গোলে একটি ইতিহাসও গড়েছেন সুলিভান। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ আমেরিকান গোলদাতা হয়েছেন তিনি।১২তম মিনিটে স্টাস কোরজেনিওভস্কিকে দিয়ে গোল করান সুলিভান। তারপর বেন বেন্ডারকে দিয়ে ৫৩তম মিনিটে গোল করিয়েছেন। নিজেও দুটি গোল করেছেন ১২ মিনিটের ব্যবধানে। ৭৬ ও ৮৮ মিনিটে জোড়া গোল পূর্ণ করেন।সুলিভান মায়ের সূত্রে জার্মান-বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত। তার মায়ের নাম হেইকে। সুলিভানের নানী সুলতানা আলম বাংলাদেশি। ১৪ বছর বয়সে ঘরের ক্লাবের সঙ্গে চুক্তির পর থেকে সুলিভানের রেকর্ড গড়া শুরু। গত ১৭ জুলাই ইউনিয়নের হয়ে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে আমেরিকান ফুটবলে ইতিহাস গড়েন তিনি। এবার ১৬ বছর, চার মাস ও ২৯ দিন বয়সে গোল করে বৃহস্পতিবার আরেকটি ইতিহাসের রচনা করলেন।
প্রেম, অভিমান, নাটকীয়তা আর নৃশংসতার সংমিশ্রণে বিশেষ নাটক ‘প্রেমাতাল’ নির্মাণ করেছেন হাসিব হোসাইন রাখি। এবারের ঈদে সিএমভি’র বিশেষ এই নির্মাণ শুধু প্রেমের নয়, বরং এক অনন্ত অপেক্ষার।গল্পের মূল চরিত্র নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা এবং সদ্যবিবাহিত স্ত্রী এক অনিশ্চিত সময়ের মুখোমুখি হন। প্রিয় মানুষটি বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে, সেটিও তাদের জানা নেই। এমন এক হৃদয়স্পর্শী প্রেক্ষাপটে সাজানো হয়েছে । নাটকটির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন তৌসিফ মাহবুব ও নাজনীন নীহা। নির্মাতা হাসিব হোসাইন রাখি পরিচালিত এই নাটকটির শুটিং সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এর চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন সুমন হোসাইন।নাটকটির গল্প নিয়ে নির্মাতা রাখি জানিয়েছেন, এটি একই সাথে এক মায়ের ছেলের জন্য এবং এক স্ত্রীর স্বামীর জন্য অপেক্ষার গল্প। এই অপেক্ষার আবহে মিশে আছে অনেক গভীর আবেগ ও নাটকীয়তা। প্রযোজক এস কে সাহেদ আলী পাপ্পু নাটকটি নিয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে জানান, বর্তমান সময়ে এমন গভীর গল্পের চিত্রনাট্য পাওয়া বেশ কঠিন। তাই ‘প্রেমাতাল’ হতে যাচ্ছে এই ঈদে তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আসন্ন ঈদে সিএমভি’র অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি মুক্তি পাবে।
দীর্ঘ সাত বছরের প্রেমের পর অবশেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন দক্ষিণী তারকা রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা। রাজস্থানের উদয়পুরে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় শুরু হয় দুই তারকার বিয়ের রজকীয় আয়োজন।ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো খবররে বলা হয়েছে, তেলুগু রীতি অনুযায়ী বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফা বিয়েতে বসেন রাশমিকা ও বিজয়। এই বিশেষ আয়োজনে রাশমিকার পরেন ঐতিহ্যবাহী কোডাভা স্টাইলের শাড়ি।জানা গেছে, কোডাভা প্রথা অনুযায়ী শাড়ির ভাঁজ থাকে পেছনের দিকে, যা কুর্গ অঞ্চলের নারীদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক। এই পোশাক নির্বাচনের মধ্য দিয়েই নিজের শেকড় ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানান অভিনেত্রী।এর আগে সকালে তেলুগু রীতি মেনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই তারকা দম্পতি। তেলুগু বিয়েতে রাশমিকার পোশাক ছিল অত্যন্ত নান্দনিক ও ঐতিহ্যবাহী।শোনা যাচ্ছে, তার বিবাহের পোশাকে ছিল মহরৎ ও দামী সিল্ক শাড়ির বিশেষ সমাহার, যা পুরো বিয়ের আয়োজনকে দিয়েছে রাজকীয় আবহ।বিকেল ৫টার শুরু হওয়া কোডাভা বিবাহানুষ্ঠানটি এক থেকে দুই ঘণ্টা ধরে চলে বলে জানা গেছে। সকালে তেলুগু রীতি এবং সন্ধ্যায় কোডাভা প্রথা—দুই সংস্কৃতির মেলবন্ধনে উদয়পুরে সম্পন্ন হলো রাশমিকা ও বিজয়ের বহুল আলোচিত বিয়ে। সূত্র: এনডিটিভি
বলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালি অসুস্থ। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ছিল এই নন্দিত পরিচালকের ৬৩তম জন্মদিন। কিন্তু আনন্দের সেই ক্ষণ কাটতে না কাটতেই ভক্তদের জন্য এলো দুঃসংবাদ। জন্মদিনের পার্টি চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছে তাকে।হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনযায়ী, গত মঙ্গলবার রাতে নিজের জন্মদিনের ঘরোয়া অনুষ্ঠানে থাকাকালীনই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করেন বনশালি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত তাকে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার খবর ছড়িয়ে পড়লে বলিপাড়াসহ ভক্তমহলে উদ্বেগ দেখা দেয়।এদিকে বনশালির অসুস্থতা নিয়ে নানা গুঞ্জন ডালপালা মেললে মুখ খোলে তার পরিবার। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, চিন্তার কোনো কারণ নেই। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সঞ্জয় লীলা বনশালি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তাকে রুটিন চেকআপের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। ভক্তদের ভালোবাসার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’ জন্মদিনের পার্টিতে বনশালি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে পরিচালকের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তার মতে, হাসপাতালে ভর্তির খবরটি একেবারেই ভিত্তিহীন এবং বনশালি এখন নিজের বাড়িতেই বিশ্রাম নিচ্ছেন।
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী সম্প্রতি লাগেজে মদের বোতল পাওয়ার অভিযোগে বেশ আলোচনায় এসেছেন । তবে ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। তিনি জানান নানা বিষয়ে তাকে টার্গেট করে ইচ্ছে করে মানহানির চেষ্টা চলছে। মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ এবং তার মানহানির চেষ্টা করায় আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ফেসবুকে মেহজাবীন লেখেন, ‘সাম্প্রতিক যে ঘটনাটি নিয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে মানহানিকর প্রচার চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে আমি ইতিমধ্যে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।' তার দাবি, উল্লিখিত কোনো ঘটনায় তাকে কখনোই বিমানবন্দরে আটকানো হয়নি। এমনকি তার কোনো হ্যান্ডব্যাগ বা লাগেজও জব্দ করা হয়নি। তার লাগেজে অবৈধ কিছু পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।মেহজাবীন বলেন, যেসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে সেগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বিমানবন্দরের কোনো কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বা তার লাগেজ থেকে অবৈধ কিছু উদ্ধার হয়েছে—এমন কোনো ছবি, ভিডিও বা প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে কিনা।পোস্টে তিনি লেখেন, বর্তমানে মানহানি যেন খুব স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার অভিযোগ, কোনো প্রমাণ ছাড়াই ক্লিকবেইট তৈরির উদ্দেশ্যে তার ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের আগস্টে বিদেশ থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরার সময় মেহজাবীন চৌধুরীকে আটক করা হয়েছিল। সেখানে তার লাগেজে ১৪ বোতল মদ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়। ওই সময় তার সঙ্গে নির্মাতা ও প্রযোজক স্বামী আদনান আল রাজীব এবং নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযানে নামে পুলিশ। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সে ভিডিও। অভিযান চলাকালে কয়েকজনকে মারধর করতে দেখা গেছে পুলিশকে। যা নেটিজেনরা ভালোভাবে নেননি। ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়াও। অভিযান চলাকালে এক কিশোরকে সপাটে চড় মারেন এক পুলিশ সদস্য। ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। তার-ই এক স্ক্রিনশট শেয়ার দিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শবনম ফারিয়া। তিনি লিখেছেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলার যে অবস্থা, অবশ্যই সার্চ করবেন, জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। এইটা আপনাদের কাজ। কিন্তু গায়ে হাত তুলবেন কেন? এইযে হুদাই ক্ষমতার অপব্যবহার করেন বলে আপনাদের ওপর মানুষের বিশ্বাস কিংবা সম্মান নষ্ট হয়ে যায়!’ অভিনেত্রী লেখেন, ‘আমরা আপনাদের সন্মান করতে চাই, বিশ্বাস করতে চাই আপনারা সত্যিই আমাদের সেবায় নিয়োজিত। আমরা চাই আপনারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখুন। কিন্তু দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা দেয়ার পাশাপাশি সন্মান ও করতে হবে।’
বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের শারীরিক অবস্থা ও কর্মব্যস্ততা নিয়ে অবাক করা তথ্য ফাঁস করেছেন জ্যেষ্ঠ অভিনেতা গোবিন্দ নমদেব। দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা এবং মেরুদণ্ডের সমস্যা রয়েছে শাহরুখের- এমনটা জানেন সেই অভিনেতা। তাই বিষ্ময় প্রকাশ করে বললেন, এ অবস্থাতেই ২০ ঘণ্টা কাজ করেন বলিউড কিং! সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কিং খানের কঠোর পরিশ্রম ও জীবনযাপন নিয়ে মুখ খোলেন গোবিন্দ নমদেব। শাহরুখের এই সহ-অভিনেতার মতে, নায়কের শরীরে নানাবিধ জটিলতা রয়েছে, বিশেষ করে তার শিরদাঁড়ার হাড়ের সমস্যা বেশ পুরনো। গোবিন্দ বলেন, আমি অবাক হয়ে যাই এই ভেবে যে, শরীরে এত সমস্যা থাকার পরও একজন মানুষ কীভাবে দিনে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন? তিনি মাত্র ৩-৪ ঘণ্টা ঘুমান, আবার নিয়ম করে শরীরচর্চা ও সংলাপ মুখস্থ করেন। শারীরিক কষ্টকে উপেক্ষা করেই তিনি সব অনুষ্ঠানে যোগ দেন।২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি’ সিনেমায় শাহরুখের সঙ্গে কাজ করেছিলেন গোবিন্দ নমদেব। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, শাহরুখের সঙ্গে কাজ করা দারুণ অভিজ্ঞতার। তখনই বুঝেছিলাম, ২৪ ঘণ্টা কাজ করার ক্ষমতা যদি কারও থাকে, তবে তা শুধু শাহরুখেরই আছে। নিজের শরীর নিয়ে একদমই ভাবেন না তিনি।এর আগে এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ খান নিজেও তার অনিয়মিত জীবনযাপনের কথা স্বীকার করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রতিদিন ভোর ৫টায় ঘুমাতে যান তিনি। শুটিং থাকলে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা ঘুমিয়ে সকাল ৯টা বা ১০টার মধ্যে সেটে হাজির হন। কাজ থেকে ফিরে গোসল সেরে আবারও শরীরচর্চায় মনোযোগ দেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তিন মাসের বকেয়া বেতন, শ্রমিক ছাঁটাই ও নির্যাতনের প্রতিবাদে বি-ব্রাদার্স গ্রুপ নামে একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল থেকে তারাবো পৌরসভার মৈকুলি এলাকায় উত্তেজিত শ্রমিকেরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে। এতে সড়কের উভয় পাশে প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রী ও পথচারীরা।শ্রমিকেরা জানান, কারখানাটিতে ২ হাজারের অধিক শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন। তাঁরা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। মালিকপক্ষ কয়েক দিন ধরে আশ্বাস দিয়ে টালবাহানা করছে। প্রতিবাদকারী শ্রমিকদের আটকে রেখে নির্যাতন ও ছাঁটাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।শনিবার সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকেরা কারখানায় কাজে যোগ না দিয়ে সাড়ে ৮টায় বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে সাড়ে ১০টার দিকে রূপগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পুলিশ শ্রমিক ও মালিকপক্ষকে নিয়ে কয়েক দফা সমঝোতার বৈঠক করে। কিন্তু বকেয়া বেতন, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ ও ছাঁটাইয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত মীমাংসা না হওয়ায় শ্রমিকেরা এখনো সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। এই বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
সৌদি আরবে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে পড়ে সিকদার (৪৮) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার দিবাগত রাতে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।হারুন সিকদার চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি রহমত আলী সিকদারের নতুন বাড়ির মো. নাগু মিয়ার ছেলে। ছয় ভাই ও সাত বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেঝ। তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক বছর বয়সী একটি কন্যাশিশু রয়েছে।পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ২ ডিসেম্বর ছুটিতে দেশে আসেন হারুন। এক মাস পাঁচ দিনের ছুটি শেষে ৭ জানুয়ারি সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফেরেন। ১২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নির্মাণাধীন একটি ভবনে কাজ করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।স্বজনেরা জানান, ভবনের একটি চতুর্মুখী সিঁড়িতে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যান হারুন। পরে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি মেডিকেল কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে ১১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়।হারুনের ছোট ভাই মো. সিফাত বলেন, আমার বোনের জামাই সেখানে তার সঙ্গে আছেন। কবে নাগাদ মরদেহ দেশে আনা যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নই। মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মালেক বলেন, ঘটনাটি শুনে খুব মর্মাহত হয়েছি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মরদেহ দেশে আনা ও দাফন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
মুসলমানদের পবিত্রতম স্থান মসজিদ। এখানে শুধু মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা নামাজ আদায়-ই করেন না। বরং অনেক জায়গায় এই মসজিদ ধর্মীয় ও আধ্যাত্নিকতার জ্ঞান অর্জনের চর্চা কেন্দ্র। দেশে দেশ পবিত্র মসজিদগুলোর ইতিহাস ও ঐতিহ্য অনুযায়ী নানা স্থাপত্যের হয়ে থাকে। যার অপূর্ব স্থাপত্যে আর শৈল্পিকরুপ বিশ্বের পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। মসজিদের আকর্ষণীয় সিলিং, দেয়ালের মার্বেল পাথর, অসধারণ কারুকাজ করা মিনার ইসলামিক কারুশিল্প এবং শৈল্পিকতাকে উপস্থাপন করে। এরকম কিছু সুন্দর মসজিদের বর্ণনা দেওয়া হলো-আল-হারাম মসজিদ, সৌদি আরবআল-হারাম মসজিদ সৌদি আরবের মক্কা শহরে অবস্থিত। আল হারাম শুধু বিশ্বের সবচেয়ে বড় মসজিদই নয়, এটিকে পবিত্রতম স্থান হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। ৪,০০,৮০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই মসজিদ। লক্ষ লক্ষ লোক হজ এবং ওমরাহ পালনের জন্য আল-হারাম মসজিদ পরিদর্শন করে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদ হিসাবে স্থান পেয়েছে। মোট ৪ মিলিয়ন মুসল্লির ধারণক্ষমতা রয়েছে এই মসজিদে।শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ, আবুধাবিসংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে এই মসজিদ অবস্থিত। বিশ্বের বৃহত্তম হস্তনির্মিত কার্পেট এই মসজিদে রয়েছে। একটি ১২ টন ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি রয়েছে যা দেখতে অনেক পর্যটক চলে আসে। ৮২টি সাদা মার্বেল গম্বুজ, ১,০৬৯ টি বাহ্যিক কলাম, ৯৬ টি অর্ধমূল্য রত্ন-ঢাকা অভ্যন্তরীণ কলাম, সাতটি ২৪ ক্যারেট সোনার ধাতুপট্টাবৃত স্বরোভস্কি ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি রয়েছে শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদে। মসজিদের দেয়ালে ক্যালিগ্রাফিক লেখা রয়েছে যা মুসলমানদের ধৈর্য বজায় রাখতে এবং শান্তি ছড়িয়ে দিতে উত্সাহিত করে।হাগিয়া সোফিয়া মসজিদ, তুরস্ক হাগিয়া সোফিয়া মসজিদটি শুধুমাত্র অতুলনীয় সৌন্দর্যের জন্যই নয় বরং এর তাৎপর্যপূর্ণ ইতিহাসের জন্য বিশ্বের সকল মুসলমানদের জন্য এটি একটি দর্শনীয় স্থান। বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদগুলির মধ্যে একটি এই মসজিদ। এই পবিত্র স্থানটি বাইজেন্টাইন স্থাপত্যের একটি জীবন্ত উদাহরণ। এটি মূলত একটি খ্রিস্টান গির্জা হিসাবে নির্মিত হয়েছিল। তবে অটোমান শাসনামলে এটি একটি মসজিদে রূপান্তরিত হয়। হাগিয়া সোফিয়া মসজিদে মুসলিম সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত আরবি ভাষায় দীর্ঘ মিনার এবং শিলালিপি রয়েছে। যেখানে সুন্দর মোজাইকগুলি খ্রিস্টানদের অতীতের কথা বলে।নাসির-আল-মুলক মসজিদ, ইরাননাসির আল-মুলক মসজিদ তার অসম্ভাব্য স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য বিখ্যাত। মসজিদটি প্রচুর গোলাপী টাইলস দিয়ে সজ্জিত। তাই এটি ‘গোলাপী মসজিদ’ নামেও পরিচিত। ১৯ শতকে এটি কাজার রাজবংশের মির্জা হাসান আলী নাসিরের আদেশে নির্মিত হয়েছিল। মসজিদটির চত্বরে একটি সুন্দর আয়তাকার পুল রয়েছে। যার চারপাশে ফুলের গাছপালা ঘেরা। মসজিদটি রঙিন কাচ দিয়ে ঘেরা। যার ফলে ভোরবেলা সূর্য ওঠার সাথে সাথে এক ধরনের আলোর খেলা শুরু হয়।ইসলামিক সেন্টার মসজিদ, ক্রোয়েশিয়াএই মসজিদটি সমসাময়িক ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিল্পকলার একটি সুন্দর সমন্বয়। বাঁকা জ্যামিতিক আকৃতি এবং নিদর্শন সমন্বিত নকশায় গড়ে তোলা হয়েছে মসজিদটি। মসজিদটিতে একটি অনন্য শৈলীযুক্ত গম্বুজ রয়েছে। যা পাঁচটি পৃথক অংশে বিভক্ত। ইসলামিক সেন্টার মসজিদটি সুপরিচিত ক্রোয়েশিয়ান ভাস্কর, দুসান জামোনজা দ্বারা ডিজাইন করা হয়েছিল। বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান।লিড মসজিদ : আলবেনিয়ার সাকোদার নগরীতে এই মসজিদটি অবস্থিত। হুই মসজিদ : চীনের নিংজিয়ায় এই মসজিদটি রয়েছে। চীনের বিভিন্ন প্রদেশের মুসলমানরা এই মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন।সেন্ট পিটার্সবুগ মসজিদ : রাশিয়ার পিটার্সবুর্গে এই মসজিদটি রয়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম সৌন্দর্য মণ্ডিত মসজিদ।আল নিদা মসজিদ : এই মসজিদটি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত।সানসাইন মসজিদ : অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত এই মসজিদটির গায়ে সূর্যের আলো পরলে চকচক করে।কুলশারিফ মসজিদ : রাশিয়ার কাজানে এই মসজিদটি রয়েছে। রাশিয়া ভ্রমণে গেলে প্রতিটি মুসলমানই চেষ্টা করেন এই মসজিদটি ঘুরে আসতে।বাদশাহী মসজিদ : পাকিস্থানের সবচেয়ে ঐতিহ্য মণ্ডিত এই মসজিদটি সে দেশের গর্বের প্রতীক। গ্রিন লেন মসজিদ : ইংল্যান্ডে বসবাসরত প্রতিটি মুসলমান এই মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকেন।
মিসিং ডে। এটি কেবল পুরোনো প্রেমের বিরহ যাপন নয়, এটি হারানো বন্ধুত্ব ও ফেলে আসা সোনালি দিন। প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো অমলিন মুহূর্তগুলো স্মরণের দিনও এটি। ফেব্রুয়ারি মাস মানে কেবলই গোলাপ, চকলেট আর ভালোবাসার দিন নয়; এর ঠিক উল্টো পিঠে থাকে ‘অ্যান্টি-ভ্যালেন্টাইন উইক’। এ সপ্তাহের ষষ্ঠ দিন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় মিসিং ডে। দিনটি কেবল পুরোনো প্রেমের বিরহ যাপনের জন্য নয়; বরং হারানো বন্ধুত্ব, ফেলে আসা সোনালি দিন এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো অমলিন মুহূর্তগুলো স্মরণের দিনও বটে।আমাদের জীবনের যান্ত্রিকতায় আমরা অনেক সময়ই ছোটবেলার বন্ধু, স্কুল-কলেজের সহপাঠী বা আত্মীয়দের থেকে অনেক দূরে সরে যাই। জীবনের প্রয়োজনে ব্যস্ততা বাড়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই ব্যস্ততার কারণে যখন প্রিয় মানুষগুলো থেকে আমরা দূরে সরে যাই, তখন আমাদের মধ্যে একধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রিয়জনের অভাব অনুভব করে তাদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করলে মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা কমে। বিশেষ করে যাঁরা কোনো টক্সিক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছেন বা কারও দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন, তাঁদের জন্য এই দিন হতে পারে নতুন করে পুরোনো সম্পর্কগুলো ফিরে পাওয়ার সুযোগ।হারানো বন্ধুদের খুঁজে বের করা, স্কুল বা কলেজের যে প্রিয় বন্ধুটির সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা হতো, তাকে অন্তত একবার এদিনে কল করা। পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে পুরোনো সেই আড্ডার কথা ভাগ করলে মনের জমানো অস্থিরতাগুলো নিমেষেই মুছে যায়। এটি মনে করিয়ে দেয় এখনো এমন মানুষ আছে, যারা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে জানে।শৈশব মানেই নির্ভেজাল আনন্দ। সেই দিনগুলোর কথা একা একা ভাবার চেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন। শৈশবের সেই হারানো হাসিগুলোই হতে পারে আপনার আজকের ক্লান্তি দূর করার টনিক। যদি সম্ভব হয়, বন্ধুদের নিয়ে আবার এক ছাদের নিচে আড্ডা দিন। এতে আবেগ ও অনুভূতির স্বতঃস্ফূর্ত বিনিময় ঘটবে। এক কাপ চা বা কফিতে চুমুক দিতে দিতে পুরোনো স্মৃতিগুলো মনে করলে দিনটি আপনার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শহুরে একঘেয়েমি দূর করতে বন্ধুদের সঙ্গে ছোটখাটো পিকনিক বা প্রকৃতির মাঝে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন। খোলা আকাশ আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটালে পুরোনো বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসে। এটি কেবল আনন্দই দেয় না, বরং হারানো সম্পর্কগুলোকে পুনরায় শক্তিশালী করে।আপনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হয়ে থাকলে সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে না থেকে বরং তাদের কথা ভাবুন, যারা অতীতে নিঃস্বার্থভাবে আপনার পাশে ছিল। মিসিং ডেতে সেসব মানুষদের গুরুত্ব দিন, যারা সত্যিই আপনার ভালো চায়। অতীতের ভুল মানুষকে ভুলে যাওয়ার সেরা উপায় হলো বর্তমানের সঠিক মানুষদের আঁকড়ে ধরা।দূরত্বের কারণে দেখা করা সম্ভব না হলে বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির সহায়তা নিন। একটি সুন্দর দীর্ঘ মেসেজ বা পুরোনো কোনো ছবি পাঠিয়ে আপনার হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে জানান, আপনি তাকে এখনো মনে করছেন। আপনার একটি ছোট মেসেজ হয়তো হারানো কোনো সম্পর্কের দরজা আবারও খুলে দিতে পারে।স্কুলের টিফিন ভাগ করে খাওয়া কিংবা ক্লাস পালানোর দিনগুলোর কথা মনে পড়লে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্কুলের কোনো গ্রুপে বা নির্দিষ্ট বন্ধুকে ট্যাগ করে সেই সময়ের কোনো মজার ঘটনা শেয়ার করুন। দেখবেন, অনেক ভালো লাগবে।যারা জীবনের কঠিন সময়ে আপনার হাত ধরেছিল, আজ তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। আমাদের জীবনে এমন অনেকেই থাকে, যাদের অবদান আমরা মুখ ফুটে বলতে পারি না। আজ তাদের একটি ধন্যবাদসূচক বার্তা পাঠিয়ে দিন। এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আপনার ও আপনার বন্ধুদের সম্পর্ক আরও গভীর ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে। সূত্র: মিডিয়াম, উইকিহাউ ও অন্যান্য
বছর ঘুরে আবার আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে বরকতময় মাস রমজান। এটি শুধু উপবাসের মাস নয়; আত্মিক পরিশুদ্ধি, ত্যাগের মহিমা ও সহমর্মিতার অনন্য শিক্ষায় ভরা এক মহিমান্বিত সময়। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকার এই সাধনা মুমিনের জীবনে আনে প্রশান্তি, সংযম ও আত্মশুদ্ধির বার্তা।আত্মিক পরিশুদ্ধির আহ্বানরমজান মানেই এক পবিত্র আবহ। ভোরের সেহরি থেকে রাতের তারাবিহ—প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদতের সৌরভে ভরপুর। এ মাসে মানুষ কুপ্রবৃত্তি দমন করে ধৈর্য, সংযম ও সহনশীলতার চর্চা করে। রোজা কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা থেকে বিরত থাকা নয়; এটি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার এক বিশেষ অনুশীলন। এই এক মাসের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নৈতিক শিক্ষাই যেন বছরের বাকি সময়ের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠে।ইফতারের আমেজ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনদিনভর সিয়াম সাধনার পর সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ে, ঘরে ঘরে শুরু হয় ইফতারের প্রস্তুতি। মুড়ি, ছোলা, বেগুনি, খেজুর ও শরবতের সুগন্ধে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। তবে ইফতারের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের চর্চা। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে একসঙ্গে বসে ইফতার করার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষারমজান আমাদের শেখায় ক্ষুধার প্রকৃত অর্থ। যারা সারা বছর অভাব-অনটনের সঙ্গে সংগ্রাম করে, তাদের কষ্ট উপলব্ধির সুযোগ এনে দেয় এই মাস। তাই রমজানে দান-সদকা ও জাকাত প্রদানের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের মুখে হাসি ফোটানো—এসবের মধ্য দিয়েই রমজানের প্রকৃত তাৎপর্য প্রতিফলিত হয়।বদলে যাওয়া নাগরিক জীবনরমজানে দৈনন্দিন জীবনের ছন্দেও আসে পরিবর্তন। অফিস-আদালতের সময়সূচি সামঞ্জস্য করা হয়, বাজারে বাড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা। বিশেষ করে শেষ দশকে ঈদের আনন্দঘন আমেজ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। কেনাকাটার ব্যস্ততার মাঝেও মানুষের হৃদয়ে থাকে ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির আকাঙ্ক্ষা।রমজান ধৈর্যের মাস, আর ধৈর্যের প্রতিদান জান্নাত। শান্তি, রহমত ও ক্ষমার বার্তা নিয়ে প্রতি বছর আমাদের কাছে ফিরে আসে এই মহিমান্বিত মাস। রমজানের সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা যদি ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিফলিত হয়, তবে গড়ে উঠবে কলুষমুক্ত, সুন্দর এক সমাজ। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও নৈতিকতার আলোয় উদ্ভাসিত হোক আমাদের জীবন—এই হোক মাহে রমজানের অঙ্গীকার।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাম্প্রতিক কয়েকটি নৃশংস হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব প্রতিক্রিয়া জানান।পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকায় ৬ বছর বয়সী শিশু তাহিয়াকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা, নরসিংদীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর খুন এবং হাজারীবাগে এক স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা গোটা জাতিকে স্তম্ভিত করেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।জামায়াতের আমির অভিযোগ করেন, কয়েকটি ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও প্রশাসনের শৈথিল্য লক্ষ করা যাচ্ছে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার পরিবর্তে কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছাড়ার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। শিশু তাহিয়া হত্যাকাণ্ডকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা কারা করছে এবং মামলা তুলে নিতে পরিবারকে কারা হুমকি দিচ্ছে—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।তিনি বলেন, দলীয় পরিচয় ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্যাতিতদের দমন এবং অপরাধীদের রক্ষা করা কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সংস্কৃতি হতে পারে না। ইনসাফের প্রশ্নে আপসের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ডা. শফিকুর রহমান নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি দেশের সকল মজলুম মানুষের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।