গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী এলাকায় যাত্রীবাহী লোকাল বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বৌলতলী সেতুর কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি।বৌলতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোল্লা আফজাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, টেকেরহাট থেকে গোপালগঞ্জগামী সোনালী পরিবহনের একটি লোকাল বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা টেকেরহাটগামী একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাকটি উল্টে সড়কের ওপর পড়ে যায় এবং বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। আহত ব্যক্তিদের গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ট্রাকের চালক ও সহকারী নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর বাসের এক যাত্রীর মৃত্যু হয়।দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সড়কের ওপর পড়ে থাকা ট্রাকটি সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
১ দিন আগে
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অবৈধভাবে নকল তামাকজাত পণ্য (জর্দা) তৈরির কারখানায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের এক ঘণ্টার মধ্যে শাকিল (২৪) নামে একজনকে আটক করেছে ভূঞাপুর থানা পুলিশ। তবে ঘটনায় অভিযুক্ত আরো দুইজন পলাতক রয়েছেন।সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কালা সড়ক সংলগ্ন কুকাদাইর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ আলী (৬০) ও তার দুই ছেলে মিজান (৪০) ও শাকিল (২৪) দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন ও নিবন্ধন ছাড়াই জর্দা তৈরি ও বাজারজাত করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে অর্থদণ্ড ও কারখানা বন্ধের নির্দেশ দেয়। পরে গোপনে কারখানা চালুর খবর পেয়ে সাংবাদিকরা সেখানে সংবাদ সংগ্রহে যান।এ সময় সাংবাদিকদের গালিগালাজ, পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা, আঘাতের চেষ্টা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি ইউএনও মো. মাহবুব হাসান ও ওসি একেএম রেজাউল করিমকে জানানো হয়। এতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে প্রশাসনের নির্দেশনায় তাৎক্ষণিক কারখানাটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।এ ঘটনায় চ্যানেল এস টেলিভিশনের সংবাদ প্রতিনিধি হাদী চকদার ও বৈশাখী টেলিভিশনের প্রতিনিধি দুলদুল হোসেন রাজু সহ পাঁচ সাংবাদিক রাতেই অভিযুক্ত ওই তিন জনের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। পরে সেই অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে শাকিল নামে এক অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ। তবে ঘটনায় আরো ২ জন অভিযুক্ত এখনো পলাতক রয়েছেন। রিপোর্টর্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল এস টেলিভিশনের প্রতিনিধি হাদী চকদার বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এমন আচরণ আমরা কখনোই প্রত্যাশা করি না। আমরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ ঘটনায় দ্রুত আইনি সহায়তা দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম রেজাউল করিম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই শাকিলকে আটক করা হয়েছে। বাকি দুজনকেও আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১ দিন আগে
মতলব উত্তর উপজেলায় শতাধিক স্থানে মাদকের আখড়া গড়ে ওঠায় উদ্বেগ বেড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। পাশাপাশি “এমইও” নামে থাইল্যান্ডের একটি জুয়ার প্রচলনও বাড়ছে, যা সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও পারিবারিক অস্থিরতা বৃদ্ধি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মতলব উত্তর উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নের ১০-১২টিরও বেশি স্থানে মাদকের আসর বসছে। ইয়াবা ও গাঁজার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। এতে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ বেকার যুবকেরা মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনাও বাড়ছে।অভিযোগ রয়েছে, উপজেলায় অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ জন মাদক ব্যবসায়ী সক্রিয়। এদের মধ্যে ১০-১২ জন পাইকারি ব্যবসায়ী দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মাদক এনে খুচরা বিক্রেতাদের সরবরাহ করে। মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যে তারা জামিনে বেরিয়ে আসছে বলে জানান স্থানীয়রা।ছেংগারচর পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজার, সড়কসংলগ্ন এলাকা, গলিপথ এবং নির্জন স্থানে এসব মাদকের স্পট বিস্তৃত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে “এমইও” নামে একটি জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছেন অটোরিকশা, রিকশা ও টেম্পু চালকসহ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। এতে অনেক পরিবার অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত ৫০০ পরিবার এই জুয়ার কারণে চরম সংকটে পড়েছে।ভুক্তভোগী একাধিক পরিবার জানায়, উপার্জনের অর্থ জুয়ায় হারিয়ে অনেকেই খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন, ফলে সংসারে অভাব-অনটন ও কলহ বাড়ছে। মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বশির আহমেদ খান বলেন, “মাদক ও জুয়া সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এটি রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মতলব উত্তর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে একদিন পরপর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী র্যালি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক নির্মূলে পুলিশের এই অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, উপজেলায় মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাদকদ্রব্যের অবৈধ কেনাবেচা ও সরবরাহ বন্ধে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। মাদক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
১ দিন আগে
সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৮-এর সংসদ সদস্য,আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা।সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জেসমিন আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আবতাবুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হামিদুল ইসলাম, গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস ছবুর, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আলেমুল বাশার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মঈদুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী জয়া স্যানাল, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ এবং গঙ্গাচড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল আখের মিঞাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।মতবিনিময় সভায় কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের বিভিন্ন সমস্যা, সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং উপজেলার উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।সভায় ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা বলেন, ‘গঙ্গাচড়ার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সরকারি সেবার মান বাড়াতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে হবে। কোনো মানুষ যাতে হয়রানি বা অবহেলার শিকার না হন, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘গঙ্গাচড়ার উন্নয়নে যে সম্ভাবনাগুলো রয়েছে, সেগুলো কাজে লাগাতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।’মতবিনিময় সভায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, সিনিয়র সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম চাঁন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ, মিজানুর রহমান লুলুসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে