জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া রেকর্ডপত্র বানিয়ে চট্টগ্রাম আগ্রাবাদের বাণিজ্যিক এলাকায় সরকারি জমির মালিকানা দেখিয়ে ভোগদখল ও ভাড়া পরিশোধ না করে প্রায় চব্বিশ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাগেরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।রোববার (৪ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপপরিচালক) আকতারুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।অন্য আসামিরা হলো– মেসার্স কনকর্ড ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. ফরিদ আহমেদ, আগ্রাবাদ কনভেনশন হলের স্বত্বাধিকারী মো. ফাহিম আহমেদ, ফাতেমা বেগম, হাসিনা মমতাজ, মো. ফয়েজ আহমেদ, রোকেয়া সুলতানা ও শাহীন সুলতানা।তিনি জানান, চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় ২৪.৯৬ শতক সরকারি জমি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে তা ভোগদখল ও ভাড়া পরিশোধ না করে ২৩ কোটি ৬৮ লক্ষ ৩৯ হাজার ২৬৮ টাকা আত্মসাৎ ও ভোগদখলে রাখার অপরাধে মামলা রুজুর অনুমোদন দিয়েছে দুদক।অভিযোগে, আগ্রাবাদ কনভেনশন হলের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ফাহিম আহমেদ, চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের সাবেক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও বর্তমান বাগেরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ-আলম ফারুকসহ আটজনের বিরুদ্ধে একে অপরের সহযোগিতায় অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক নিজে লাভবান হয়ে এবং অন্যকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্যে জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া রেকর্ডপত্র বানিয়ে তা খাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।এ ঘটনায় অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার ২৪.৯৬ শতক সরকারি জমি ও ভাড়া পরিশোধ না করে তেইশ কোটি আটষট্টি লক্ষ উনচল্লিশ হাজার দুইশত আটষট্টি টাকা আত্মসাৎ ও ভোগদখলে রাখার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে ১টি মামলা রুজুর অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
২১ ঘন্টা আগে
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই অভিযানে ২১ কিশোরকে আটক করে যাচাই-বাছাই শেষে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে মতলব উত্তর থানা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে মতলব উত্তর থানা পুলিশ।পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার তিনজন হলেন, মো. সবুজ (৩৩), নুরুল ইসলাম ওরফে কৃষ্ণা (৩৫) এবং দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলু (৪৯)। তাদের কাছ থেকে ২০ গ্রাম গাঁজা, ৫৫ পিস ইয়াবা ও ১০০ গ্রাম গাঁজা এবং ২২ পিস ইয়াবা ও ৯০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে।এদিকে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ২১ কিশোরকে থানায় এনে তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হয়। পরে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় প্রকৃত অভিভাবকদের জিম্মায় তাদের দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।মতলব উত্তর থানা পুলিশের এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের সার্বিক নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব এবং মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ মানস বড়ুয়া।মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে জানিয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, মতলব উত্তর থানায় সম্প্রতি নতুন অফিসার যোগদান করেছেন। তার নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছি।মতলবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
১ দিন আগে
ঢাকার ধামরাইয়ে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সূতিপাড়া ইউনিয়নের বালিথা বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।আহতরা হলেন বাবুল মিয়া, জাহিদুল ইসলাম বাবু, রাসেদা বেগম, চায়ের দোকানি খলিল ও শরীফ প্রমুখ।স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যান। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধামরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুল এবং উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সূতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমার অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে।শনিবার আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাথুলী এলাকায় একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বালিথা বাজার এলাকায় তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষের একপর্যায়ে চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমার মেয়ের জামাই জাহিদুল ইসলাম বাবুসহ কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পরে পাল্টা হামলায় সূতিপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ আহত হয়।ঘটনার পর বালিথা বাজার ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, “সূতিপাড়া ইউনিয়নে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
১ দিন আগে
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র দুর্গন্ধ। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। টয়লেট, ড্রেন ও মেঝেসহ বিভিন্ন স্থানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ বিরাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। এর সঙ্গে জনবল সংকট থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা।রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের কয়েকটি টয়লেট দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার থাকায় সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। বিভিন্ন ড্রেনে মলমূত্র ও ময়লা জমে থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানেও পড়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। এমনকি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ভেতর ও আশপাশেও ময়লা জমে থাকার অভিযোগ রয়েছে।হাসপাতালের এমন নোংরা ও দুর্গন্ধময় পরিবেশে চিকিৎসা নিতে এসে উল্টো অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন রোগীরা। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের দুর্ভোগ বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা।এ পরিস্থিতিতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত হাসপাতালের টয়লেট, ড্রেন ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।এ বিষয়ে হাসপাতালের আরএমএ প্রমিত পাল বলেন, “হাসপাতালে সমস্যার শেষ নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।”স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জনবল সংকট নিরসন করে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
১ দিন আগে