গত কয়েকদিনে ভারি বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের হাওড়াঞ্চলে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। পানি কমার আশা ভেস্তে দিয়ে আবার বৃষ্টি: তলিয়ে যাওয়া বোরো ফসল নিয়ে মৌলভীবাজারের কাওয়াদিঘীর হাওরে কৃষকের হাহাকার। ঋণের বোঝা অনিশ্চয়তা দিন দিন মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে কৃষকদের।”সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওড় অঞ্চলে হু হু করে বাড়ছে পানি। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে তলিয়ে যাচ্ছে একের পর এক ফসলি জমি। সরেজমিনে দেখা গেছে, কান্নায় ভেঙে পড়েন কয়েকজন কৃষক। ‘দিনে রাতে পানি বাড়ছে। চোখের সামনে পাকা ধান ডুবে গেছে। কেউ কোমর সমান পানিতে নেমে, কেউ নৌকায় করে জমিতে গিয়ে ধান কাটছেন। হাওড়ের বুক থেকে ছোট ছোট নৌকা পাড়ের দিকে ভেসে আসছে। ওই নৌকাগুলো পাড়ে লাগানোর পর কৃষকরা ধানের আঁটি তুলে শুকনা স্থানে রাখছেন। কেউ যন্ত্রে ধান মাড়াই করছেন। কেউ ভেজা ধান স্তুপ করে রাখছেন। কেউ আবার সেই ধান বস্তায় ভরছেন। শ্রমিকরা ধানের বস্তা কাঁধে ও মাথায় করে শুকনা স্থানে নিয়ে তুলছেন। এক ফসলি এলাকা হওয়ায় জীবন-জীবিকার শেষ ভরসা রক্ষায় কৃষকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারি বর্ষণ ও ঢলের পানি হাওড়পারের কৃষকের ফসল তোলার এ আনন্দ-উৎসব নিঃশব্দ-নীরব কান্নায় পরিণত হয়েছে।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১ হাজার ৪৩২ হেক্টর জমি পানিতে ডুবে যায়। এর মধ্যে ৯৪১ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।কাউয়াদিঘি এর হাইল হাওড় কৃষক কান্না জড়িত কণ্ঠে সাবির মিয়া বলেন, আল্লাহ যদি রিজিক দেন, যেসব ধান পাওয়া গেছে, সেগুলো কয়েক বস্তা করে সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কৃষকরা জানান,কৃষি কর্মকর্তা আমাদের কাছে আসেননি। তাহলে হয়তো আমাদের এত কষ্ট করতে হতো না। নৌকার মধ্যে থেকেই ধান কেটে আনা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত না থামায় এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ধান সরিয়ে নিতে হচ্ছে। আর্থিক সহায়তা বা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পেলে গরিব মানুষের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। কৃসক জানান,মশাহিত মিয়া জানান, প্রায় ৩০ হাজার টাকা ঋণ তুলে কৃষিকাজ শুরু করেছেন। এবার সব কিছু পানির নিচে চলে গেছে। একটি খামারের পেছনে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, এর সঙ্গে আবার গাড়ি ভাড়াও লাগে। সার, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতিটি খামারে অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। আমার আর্থিক অবস্থা এখন চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। কিছু ঋণ নিয়েছিলাম, কিন্তু তা পরিশোধের কোনো পথ এখন আর নেই।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ জালাল উদ্দিন, জানান, এ বছর কৃষকরা উৎসবমুখর পরিবেশে ধান কাটছে এবং ভালো ফলনের আশা করছে। অতিবৃষ্টির কারণে জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল। কৃষকরা নৌকা ও অন্যান্য মাধ্যমে ধান কেটে সংগ্রহ করছেন। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে,শ্রমিক সংকট বা অন্য কোনো বড় সমস্যা এখন নেই।
২ ঘন্টা আগে
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামে ইজিবাইকের চার্জার লাইনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সালেহা বেগম (৮২) নামে এক বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত রাজ্জাক শিকদারের স্ত্রী।স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ২ মে ভোর আনুমানিক সকাল ৬টার দিকে সালেহা বেগম প্রতিবেশী আব্দুল হাকিম শেখের বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় সেখানে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক বৈদ্যুতিক সংযোগে চার্জে বসানো ছিল। অসাবধানতাবশত ইজিবাইকটিতে হাত দিলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।নিহতের ছেলে শাহাদাত শিকদার জানান, পারিবারিক জমির দলিল সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে তারা ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমার ভাগিনা আমাকে ডেকে আনে। পরে বাড়িতে মাকে না পেয়ে খুঁজতে খুঁজতে আব্দুল হাকিমের বাড়ির সামনে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি ইজিবাইকের চাকার নিচে মা নিথর অবস্থায় পড়ে আছেন। তাকে উদ্ধার করে কোলে নেওয়ার পর কপালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পোড়া দাগ দেখতে পাই।ইজিবাইকের মালিক আব্দুল হাকিম জানান, মানুষের চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে তিনি গাড়ির পাশে সালেহা বেগমকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঘরে নেওয়া হলে বুঝতে পারেন তিনি আর বেঁচে নেই।ডুমুরিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মমরেজ ফকির বলেন, সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। নিহত বৃদ্ধা সম্পর্কে আমার নানি হন। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি পুলিশকে জানাই এবং প্রশাসনের লোক আসা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলি।খবর পেয়ে টুঙ্গিপাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আইয়ুব আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।বৃদ্ধার আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
২ ঘন্টা আগে
টেকসই উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং পরিবেশ সংরক্ষণের দাবিতে সাতক্ষীরা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের উদ্যোগে জেলার তরুণরা ঢাকায় মানববন্ধন করেছে। এ সময় সাতক্ষীরার উন্নয়নের লক্ষ্যে ঘোষিত ১৬ দফা দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন তারা।শনিবার (২ মে) সকাল ১১টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সম্ভাবনাময় জেলা সাতক্ষীরার উন্নয়নকে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান তরুণরা। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা এই জেলাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত বলে তারা উল্লেখ করে তারা বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে সাতক্ষীরাকে দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত করা সম্ভব।এ সময় ১৬ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—১. সুন্দরবন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন: বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রতীক সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণে একটি বিশেষায়িত কর্তৃপক্ষ গঠন। ২. খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন: হিমসাগর আম, লিচু, কুল, টমেটো, পেয়ারা ও মধুর অপচয় রোধ এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আধুনিক শিল্প স্থাপন। ৩. সাতক্ষীরা-শ্যামনগর মহাসড়ক উন্নয়ন: দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা এবং পাটকেলঘাটাকে উপজেলা ঘোষণা। ৪. মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ জোন: বাগদা চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ সংরক্ষণ ও রপ্তানির জন্য আধুনিক জোন প্রতিষ্ঠা। ৫. সীমান্ত সড়ক নির্মাণ: মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী সড়ক নির্মাণ। ৬. ভোমরা স্থলবন্দরের আধুনিকায়ন: আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে বাণিজ্য কার্যক্রম সহজ করা। ৭. রেলপথ সংযোগ স্থাপন: নাভারন থেকে ভোমরা ও মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থাপন। ৮. বাস টার্মিনাল স্থানান্তর: যানজট নিরসনে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড শহরের বাইরে স্থানান্তর। ৯. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা: দেবহাটা উপজেলায় আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন। ১০. টেকসই মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন: বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ১১. টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ: প্রতিবছরের প্লাবন রোধে শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ। ১২. বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা: উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সংকট নিরসনে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং প্রকল্প। ১৩. স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন: হাসপাতাল সংস্কার, জনবল নিয়োগ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করা। ১৪. মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উন্নয়ন: ৫০০ শয্যার হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গ চালু, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার স্থাপন। ১৫. পর্যটন উন্নয়ন: নীলডুমুর ও মুন্সিগঞ্জকে ইকো-ট্যুরিজম জোন হিসেবে গড়ে তোলা। ১৬. ক্রীড়া কমপ্লেক্স স্থাপন: তরুণদের জন্য আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স ও জিমনেসিয়াম নির্মাণ।তরুণরা বলেন, এসব যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়িত হলে সাতক্ষীরার সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হবে।মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের সভাপতি ইকবাল মাসুদ, প্রধান উপদেষ্টা আফসার আলী, সাধারণ সম্পাদক বকুলুজ্জামান এবং যুগ্ম সম্পাদক স. ম. মেহেদী হাসানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, তরুণদের প্রস্তাবিত এই ১৬ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাতক্ষীরাকে উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। একইসঙ্গে টেকসই উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ সহ ১৬ দফা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
৩ ঘন্টা আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা উপজেলায় কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান কাটার নির্দেশ দিয়েছে কৃষি অফিস। পার্শ্ববর্তী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে আগামী কয়েকদিন ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা থাকায় এ সতর্কতা জারি করা হয়।২ মে সকালে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, অতিবৃষ্টির কারণে নিচু এলাকার ফসলি জমিতে পানি জমে ধানের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে পাকা ধান মাঠে বেশি দিন থাকলে ক্ষতির ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার জানান, আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিবেচনায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে।এদিকে সংশ্লিষ্টরা কৃষকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিয়মিত আবহাওয়া পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
৩ ঘন্টা আগে