বগুড়া শহরের জয়পুরপাড়া এলাকায় চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে সংগ্রহ করা ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা বর্জ্য দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশসম্মত উপায়ে অপসারণ বা ধ্বংস না করে উন্মুক্ত স্থানে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।বিষয়টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে এই কারণে যে, বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান 'স্বপ্ন'–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান একই সঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে পরিবেশ রক্ষার দাবিদার একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই পরিবেশ দূষণের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় দুই দশক ধরে বগুড়া শহরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো থেকে অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসা বর্জ্য সংগ্রহ করা হলেও তা নিরাপদ ও পরিবেশসম্মত পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে না। ফলে রক্তমাখা ব্যান্ডেজ, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, স্যালাইনের সেট, গ্লাভসসহ সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে পড়ে থাকছে।সরেজমিনে জয়পুরপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা বর্জ্য খোলা জায়গায় জমে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমোদিত পদ্ধতিতে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত বা ধ্বংস না করে বছরের পর বছর তা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্জ্য শোধনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকলেও তা কার্যকর নয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, বর্জ্যের একটি অংশ প্রকাশ্যেই আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়। এতে সৃষ্ট কালো ধোঁয়া ও তীব্র দুর্গন্ধ আশপাশের পরিবেশ দূষিত করছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, চিকিৎসা বর্জ্যের এই স্তূপের অদূরেই রয়েছে অন্তত ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। কয়েকটি মহল্লার মানুষের চলাচলের প্রধান সড়কও বর্জ্যের পাশ দিয়ে গেছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দা সম্ভাব্য সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে ওই পথ ব্যবহার করছেন। বর্ষাকালে বর্জ্যমিশ্রিত পানি আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।স্থানীয় বাসিন্দা মিতা রানী ও জয়ন্ত কুমার বলেন, বর্ষাকালে বর্জ্য পানিতে ভেসে বাড়ির সামনে চলে আসে। কখনও ব্যবহৃত ইনজেকশনের সুচে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। দুর্গন্ধ, নোংরা পানি এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে তাদের প্রতিনিয়ত বসবাস করতে হচ্ছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মোহাম্মদ আলী হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করে। কিন্তু সেই অর্থের বিপরীতে নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হচ্ছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে 'স্বপ্ন' প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান চিকিৎসা বর্জ্য সংগ্রহ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতো। তবে বিভিন্ন কারণে কিছু বর্জ্য জমে গেছে এবং দ্রুত তা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর নিয়মিত তদারকি ও কঠোর নজরদারির অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের বগুড়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহাথীর বিন মোহাম্মদ বলেন, চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দেখা হবে।অন্যদিকে বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, চিকিৎসা বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।স্থানীয়দের দাবি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে চিকিৎসা বর্জ্যের স্তূপ দ্রুত অপসারণ, পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত এবং দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় এই অব্যবস্থাপনা ভবিষ্যতে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট ডেকে আনতে পারে।
১ ঘন্টা আগে
বগুড়ায় নারী ও শিশুদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও সম্মানজনক যাতায়াত নিশ্চিত করতে চালু হতে যাচ্ছে বিআরটিসির বিশেষ দুটি বাস সার্ভিস। ইতোমধ্যেই বাস দুটি বগুড়া বিআরটিসি ডিপোতে পৌঁছেছে। এ বাসের বিশেষত্ব হলো—চালক, সুপারভাইজারসহ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সব কর্মীই হবেন নারী। গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বিআরটিসি সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ এ বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পরপরই বগুড়া শহরে নিয়মিতভাবে বাস দুটি চলাচল শুরু করবে। তবে বাসগুলোর নির্দিষ্ট রুট এবং ভাড়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।বিআরটিসির বগুড়া ডিপো ম্যানেজার শাহিনুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে বাস পরিচালনার রুট ও ভাড়া সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হবে। নির্দেশনা হাতে পেলেই বিশেষ বাস দুটি যাত্রীসেবা দিতে সড়কে নামানো হবে।
১ ঘন্টা আগে
প্রতি বছর ৫ আগস্ট বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এই দিনে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে সরকারের পতন ঘটে। বিপ্লবীদের ভাষায় দিনটি '৩৬ জুলাই' নামেও পরিচিত। সারা দেশের ন্যায় গোবিন্দগঞ্জে গণঅভ্যুত্থান দিবসটি উপলক্ষ্যে সরকারি জাতীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বুধবার ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে থানা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ৩২গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন এমপি বলেছেন, জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে আমাদের সব বাধা ঐক্যবদ্ধভাবে অতিক্রম করতে হবে। আমাদের উত্তরবঙ্গের রংপুরে কিছু থাক আর না থাক, আমাদের একজন আবু সাঈদ আছেন।উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফারুক আহাম্মেদের সভাপতিত্বে এবং পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল কবির মনুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক কবির আহাম্মেদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন দীপু, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব রেজওয়ানুল হাবীব রফিক, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর লেলিন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন পাতা, রাখালবুরুজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুল হক চৌধুরী ডিউক, কোচাশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল হক জাহিদ, রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম বিপ্লব, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাইদুর রহমান রানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান সেন্টু এবং উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সাজাদুর রহমান সাজুসহ উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।স্মরণসভায় শহীদ জুয়েল রানার পরিবারের সদস্যদের এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের ‘জুলাই স্মৃতি সম্মাননা’ স্মারক প্রদান করা হয়। এর আগে দিবসটি উপলক্ষে একটি গণমিছিল উপজেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
১ ঘন্টা আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নির্মিত ‘৩৬ জুলাই’ স্মারক তোরণে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ৭৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।বুধবার (৫ আগষ্ট) রাতে ইমন ইসলাম বাদী হয়ে টুঙ্গিপাড়া থানায় এ মামলা দায়ের করেন মামলার নং ০৫/০৮/২৬/(৫)টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আইয়ুব আলী সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদ ও আহতদের স্মরণে শনিবার স্মারক তোরণটি নির্মাণ করে টুঙ্গিপাড়া পৌর ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল। ওই দিনই গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তোরণটিতে আগুন দিলে নিচের অংশ আংশিক পুড়ে যায়।এ ঘটনায় ইমন ইসলাম বাদী হয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সোহানসহ ৩৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৪০ জনকে আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন।ওসি আরো জানান, আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। দ্রুত আসামীদের আইনের আওতায় আনা হবে।প্রসঙ্গত, গত শনিবার (০১ আগষ্ট) গভীর রাতে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধের ১ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় স্মারক তোরণটি নির্মাণ করে টুঙ্গিপাড়া পৌর ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদ ও আহতদের স্মরণে তোরণটি নির্মাণ করা হয়। পরে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তোরণটিতে আগুন দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এতে তোরণের নিচের অংশ আংশিক পুড়ে যায়।
১ ঘন্টা আগে