নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৬:১৯:১৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বর্ষণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গেলে শুরু হয় বজ্রপাতসহ তীব্র ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাত। এতে বিজয়নগর, আখাউড়া, আশুগঞ্জ, সরাইল, নাসিরনগর, নবীনগর ও কসবা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কসবা উপজেলার তিনলাখপীর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি মোবাইলফোন নেটওয়ার্ক টাওয়ার ভেঙে পাশের খালে পড়ে যায়। ফলে ওই এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
এছাড়া কায়েমপুর ইউনিয়নের মঈনপুর বাজারে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বাদৈর ইউনিয়নে একটি বড় গাছ সড়কের ওপর উপড়ে পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি মসজিদের ওপর গাছ পড়ে এর একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর, চরইসলামপুর ও হরষপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
আখাউড়া উপজেলার নারায়ণপুর এলাকায় আখাউড়া-আগরতলা সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল, বটতলী ও ভাদুঘর এলাকাতেও গাছপালা উপড়ে পড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর এলাকায় রেললাইনের ওপর গাছ পড়ে প্রায় ২০ মিনিট ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। নবীনগর উপজেলার বিটঘর, কাইতলা ও শিবপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঝড়ের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে দিনের বেলাতেই অন্ধকার নেমে আসে। অনেক যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যায় এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
জেলা প্রশাসক মোঃ আবু সাঈদ জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।