মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার থেকে
প্রকাশ : ৯ মার্চ ২০২৬ রাত ১০:০৭:২৬
দুবাইয়ে মিসাইল হামলায় নিহত প্রবাসী সালেহ আহমেদের শেষ বিদায়
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের মিসাইল হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি সালেহ আহমেদের মরদেহ সোমবার (৯ মার্চ) মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার গাজীটেকা এলাকায় তার নিজ বাড়িতে পৌঁছেছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে এসে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন।
মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় করেন।
এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের যেকোনো সংকটে সরকার সবসময় পাশে রয়েছে। নিহতের পরিবারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও তিনি জানান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আমেরিকার একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরানের ছোড়া মিসাইল হামলার সময় দুবাইয়ে অবস্থানকালে সালেহ আহমেদ নিহত হন। তিনি দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে দুবাইয়ে বসবাস করছিলেন এবং সেখানে পানিবাহী একটি গাড়ির চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এর আগে সোমবার সকালে তার মরদেহ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী তা গ্রহণ করেন। পরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহটি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সোমবার বিকেল ৫টায় মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার শত শত মানুষ অংশ নেন।
নিহতের স্বজনরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার পর থেকে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়েছে। তারা নিহত সালেহ আহমেদের জন্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।