মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার থেকে
প্রকাশ : ৯ মার্চ ২০২৬ রাত ০৮:৩৫:০১
আমিরাতে নিহত সালেহ আহমদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে দিলেন মন্ত্রী আরিফুল হক
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা দাসপাড়া গ্রামে সকাল থেকেই স্বজনদের ভিড় ছিল প্রবাসী আহমদ আলী ওরফে সালেহ আহমদের বাড়িতে। সবার অপেক্ষা ছিল—কখন দেশে ফিরবেন তিনি। তবে জীবিত নয়, শেষ পর্যন্ত বিকেলে তার নিথর দেহ কফিনবন্দি হয়ে পৌঁছায় বাড়িতে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিজেই মরদেহটি স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেন।
সোমবার (৯ মার্চ) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে কফিনবন্দি মরদেহটি বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখতে আশপাশের পাড়া-প্রতিবেশীরাও ভিড় করেন। সবার প্রিয় ও সুমিষ্টভাষী সালেহ আহমদের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
জানা যায়, আহমদ আলী ওরফে সালেহ আহমদের গ্রামের বাড়ি বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা এলাকায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনি নিহত হন। সেখানে তিনি পানি সরবরাহকারী একটি গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করতেন। তার ছোট দুই ভাই জাকির হোসেন ও বোরহান আহমদও একই শহরে থাকেন এবং তারাই প্রথম পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর জানান।
নিহত আহমদ আলীর মরদেহ সোমবার সকালে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে। এ সময় বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করতে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।
পরে মরদেহ বড়লেখায় নিয়ে গিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিহতের পরিবারের হাতে নগদ আর্থিক সহায়তাও তুলে দেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, চলমান সংঘাতে নিহতদের পরিবারকে সরকার সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে।
নিহতের এক স্বজন বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে মরদেহ দেশে আনার অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে তাকে দেশে আনতে পেরেছি। কিন্তু যেভাবে তাকে হারাতে হয়েছে, সেই কষ্ট কখনও ভোলার নয়।”
স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, “আহমদ আলী খুবই ভদ্র ও পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”
পরিবারের আরেক সদস্য বলেন, “আহমদ আলী পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের ভরণপোষণ চালাতেন। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের জন্য বড় আঘাত।”
বিকেল ৫টায় বৃহত্তর গাজিটেকা শাহী ঈদগাহ মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী অংশ নেন। পরে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।