নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬ বিকাল ০৩:০৪:১১
কারিনা কোনো রাজনৈতিক দল সাপোর্ট করতো না, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতো: বাবা কায়সার হামিদ
কারিনার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে বাবা সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ বলেছেন, ‘কারিনা কোনো রাজনৈতিক দল সাপোর্ট করতো না বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে কথা বলতো এবং ভিডিও বানাতো।’
১৭ মে রবিবার ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের মরদেহ দেশে পৌঁছে। বিকেল ৫টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করেন তার বাবা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। এরপর বাদ মাগরিব রাজধানীর বনানীর ডিওএইচএস মাঠে কারিনার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কায়সার হামিদ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে কারিনাকে জনপ্রিয় করে তোলে। মেয়ের জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে কায়সার হামিদ বলেন, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে কারিনাকে যে এতো মানুষ ভালোবাসে এটা আমার জানা ছিল না। তার প্রতি দেশের মানুষের ভালোবাসা দেখে আমার গর্ব হচ্ছে।’
এরপর মেয়ের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন কায়সার হামিদ। তিনি বলেন, ‘কারিনা কোনো রাজনৈতিক দল সাপোর্ট করতো না বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে কথা বলতো এবং ভিডিও বানাতো।’
এর আগে রোববার রাতে ঢাকা শহীদ মিনারে তার তৃতীয় জানাজা শেষ হয়। আজ সোমবার সকাল ৮টার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় কারিনার নানা বাড়ির আঙ্গিনায় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
প্রসঙ্গত, লিভারজনিত জটিলতায় কয়েক দিন ধরেই সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা কায়সার। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয় তাঁকে। পরে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চলছিল তাঁর চিকিৎসা। চিকিৎসকেরা শুরুতে তাঁর ফুসফুসের চিকিৎসা চালিয়ে যান। একই সঙ্গে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। পাশাপাশি হেপাটাইটিস এ ও ই–জনিত জটিলতায় লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়েও ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। পরে ধীরে ধীরে নাটক ও ওটিটির জগতেও নিজের অবস্থান তৈরি করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।