সীমা প্রধান
প্রকাশ : ৬ মার্চ ২০২৬ সকাল ০৯:০৪:৪১
হৃদরোগ চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত—ঢাকায় এলো চায়না থেকে অত্যাধুনিক মোবাইল অপারেশন ইউনিট
দেশের হৃদরোগ চিকিৎসায় যুক্ত হলো এক নতুন মাইলফলক। চীন সরকারের সৌজন্যে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে (NICVD) শুক্রবার রাত ৩ টায় (৬ই মার্চ২০২৬) এসে পৌঁছেছে একটি অত্যাধুনিক মোবাইল সার্জিক্যাল ইউনিট। যার মাধ্যমে এখন দুর্গম অঞ্চলেও পৌঁছে যাবে হার্টের জটিল অস্ত্রোপচারের সুবিধা।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সামনে অপেক্ষমান এই বিশাল ১২ চাকার যানটি আসলে একটি পূর্ণাঙ্গ ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল।গাড়ীটিতে রয়েছে ৫০০ লিটার ডিজেল ধারন করার ক্ষমতা। জানা যায়, ১ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা কর ধার্য করা হলেও চীন ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ সহযোগিতায় মাত্র ৯৪ হাজার টাকা কর প্রদান করে একমাত্র গাড়িটি জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সামনে এসে পৌঁছায়। চীন সরকারের 'চায়না ফাউন্ডেশন ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট' (CFRD) থেকে উপহার হিসেবে এটি সম্প্রতি বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। নিরাপত্তার জন্য আপাতত জাল দিয়ে ঢেকে রাখা এই ইউনিটের ভেতরে রয়েছে হার্ট সার্জারির জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক অপারেশন থিয়েটার ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। গাড়িটির গায়ে থাকা বাংলাদেশ ও চীনের পতাকা দুই দেশের বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল নিদর্শন বহন করছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এই মোবাইল ইউনিটের মাধ্যমে এখন আর রোগীদের সব সময় হাসপাতালের চার দেয়ালের ভেতর চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। এর প্রধান সুবিধাগুলো হলো—এটি একটি চলন্ত অপারেশন থিয়েটার যা দেশের যেকোনো প্রান্তে গিয়ে হার্টের জটিল সার্জারি করতে সক্ষম। এর ভেতরে রয়েছে উন্নত ভেন্টিলেটর, পেশেন্ট মনিটর এবং জীবনদায়ী সব আধুনিক যন্ত্রপাতি। এমনকি জরুরি শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য এখানে রয়েছে নেবুলাইজেশনের বিশেষ সুবিধা। হার্টের রোগীদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় ওষুধ যেমন—কারভিস্টা বা জারডিয়ানের মতো দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার পাশাপাশি জরুরি সেবা দিতেও এটি প্রস্তুত।
মাত্রই দেশে আসা এই মোবাইল ইউনিটটি যদি সঠিকভাবে ব্যবহার
করা হয়, তবে ঢাকার বাইরের সাধারণ রোগীরা নিজ এলাকাতেই উন্নত হৃদরোগের চিকিৎসা পাবেন।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুতই এই জীবনদায়ী সেবাটি
রাস্তায় নামবে এবং মানুষের প্রাণ বাঁচাতে ভূমিকা রাখবে।