নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ মার্চ ২০২৬ রাত ০৭:৪২:০৪
মসজিদুল আকসায় তারাবির নামাজ বন্ধ করল ইসরায়েল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলার জেরে সৃষ্ট ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ ও জরুরি অবস্থার অজুহাতে পবিত্র মসজিদুল আকসায় এশা ও তারাবির নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা রোববার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ভোরে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর ইসরায়েলি ‘হোম ফ্রন্ট কমান্ড’ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। এরই ধারাবাহিকতায় জোহরের আজানের আগেই আকসা প্রাঙ্গণ থেকে সাধারণ মুসল্লি ও ওয়াক্ফ কর্মীদের বের করে দেওয়া হয়। বর্তমানে শুধুমাত্র সীমিত সংখ্যক প্রহরীকে সেখানে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ইসলামিক ওয়াক্ফ বিভাগ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে মসজিদের ইমাম শায়খ ইউসুফ আবু আসনিনা, পরিচালক শায়খ ওমর আল-কিসওয়ানি এবং হাতেগোনা কয়েকজন কর্মচারী ছাড়া আর কেউ নামাজে অংশ নিতে পারেননি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’ জানিয়েছে, হোম ফ্রন্ট কমান্ডের পক্ষ থেকে পুরো রমজান মাসজুড়েই আকসা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি রমজানের শুরু থেকে প্রতিদিন ৩৫ হাজার থেকে প্রায় এক লাখ মুসল্লি এখানে তারাবি আদায় করে আসছিলেন। হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে ২০২০ সালের করোনা মহামারির সেই নির্জন আকসার স্মৃতি ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয়রা।
জেরুজালেমবিষয়ক গবেষক জিয়াদ ইভহাইস এই ঘটনাকে ‘আকসাকে একক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চূড়ান্ত ধাপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে আকসা বন্ধ করা মানে একে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বের অধীনে নেওয়ার অপচেষ্টা।
এদিকে শুধু মসজিদই নয়, পুরোনো শহরের ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ীদের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বেকারি ও নিত্যপণ্যের দোকান ছাড়া অধিকাংশ দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য করছে পুলিশ। অথচ একই এলাকায় ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা পুলিশের নিরাপত্তায় নিয়মিত আচার-অনুষ্ঠান পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আকসার পাশাপাশি হেবরনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শনিবার ইসলামিক ওয়াক্ফ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জরুরি অবস্থার অজুহাতে সেখানেও ফিলিস্তিনিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কর্মরতদের বের করে দেওয়া হয়েছে।