চাঁদপুরে টয়লেট থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে টয়লেট থেকে নুরজাহান বেগম (৫০) নামে প্রবাসীর স্ত্রীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ভাটেরহৃদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।মৃত নুরজাহান বেগম ওই গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আবুল কালামের স্ত্রী। তিনি ৪ সন্তানের জননী। খবর পেয়ে বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।এর আগে, নুরজাহান বেগমকে তার নিজ বসতঘরের টয়লেটে গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।মৃতের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে নুর সুলতানা তানহা বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় আমি সকালে কলেজে চলে যাই। দুপুরে বাড়িতে আসলে দেখি আমাদের বাড়ির দরজা বন্ধ। মাকে ডাকাডাকি করেছি, কোন সাড়া না পেয়ে আমার বাড়ির এক চাচাতো বোনের বাসায় যাই আমার কাছে থাকা তার ঔষধ দিয়ে আসতে। কিছুক্ষণের মধ্যে আবার ঘরের সামনে আসলে দেখি দরজা খোলা। এসময় ঘরে প্রবেশ করে দেখি টয়লেটে গলাকাটা অবস্থায় মা পড়ে আছে। আমি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন আসে। তারাসহ মাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, নুরজাহান বেগম বিভিন্ন এনজিওর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণগ্রস্ত ছিলেন। অনেক সময় দেখেছি এনজিওর লোকজন তাদের বাড়িতে এসে বসে থাকতো টাকার জন্য। ঘটনার দিন সকালেও তার বাড়িতে এনজিওর লোকজন আসে, তবে কোনো এনজিও কোম্পানির নাম তিনি বলতে পারেননি।ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক বলেন, খবর পেয়ে নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, মৃতের গলায় কাটা গভীর জখমের চিহ্ন রয়েছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন বগুড়া-৬ থেকে উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী করা হয়েছে রেজাউল করিম বাদশাকে। যিনি বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির পক্ষ থেকে রেজাউল করিম বাদশাকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।বগুড়া-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন এই তথ্য জানিয়েছেন।তিনি ফেসবুক পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, বগুড়া (সদর)-৬ আসনের এমপি প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সম্মানিত সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ভাইকে বিএনপির গুলশান দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদান করা হলো।’গুঞ্জন ছিল এই আসন থেকে জিয়া পরিবারের কেউ উপনির্বাচনে প্রার্থী হবেন। তবে বেশ কিছুদিন আগে সিদ্ধান্ত হয় জিয়া পরিবারের কেউ এখান থেকে নির্বাচন করছেন না।
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ০৭:৫৫:৫৬
গঙ্গাচড়ার আলোচিত হত্যা মামলার মূল আসামি ঢাকায় গ্রেফতার
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় আলোচিত আখেরুল ইসলাম ওরফে আখের হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। যৌথ অভিযানে মামলার মূল আসামি আব্দুল বাতেন (৪০)কে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।আব্দুল বাতেন গঙ্গাচড়া সদরের ভুটকা গ্রামের মৃত আলতাব হোসেনের ছেলে।রংপুর জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গঙ্গাচড়া মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলা নং-০৭/৩৯৮ (তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫), দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩০২/৩৪ ধারায় রুজু হওয়া মামলার তদন্তে আব্দুল বাতেনকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে রংপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও গঙ্গাচড়া মডেল থানার সমন্বয়ে গঠিত একটি দল ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের ৩২ নম্বর সড়ক থেকে তাকে গ্রেফতার করে।পুলিশ জানায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আখেরুল ইসলাম মালিপের বাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে অভিযুক্ত তার পিছু নেয়। একপর্যায়ে বাঁশঝাড়ের আড়াল থেকে বের হয়ে ভুক্তভোগীর মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।গ্রেফতারের পর আব্দুল বাতেনকে ঢাকা থেকে রংপুরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।এ বিষয়ে রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন বলেন, ক্লুলেস ও চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটনে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার মূল আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ০৭:৫২:৪৪
তারেক রহমান আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চান: এস এম জিলানী
গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া–টুঙ্গিপাড়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী বলেছেন, সকলের দেশপ্রেম ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে কাজে লাগিয়ে দেশনায়ক তারেক রহমান আগামীর একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক।এস এম জিলানী বলেন, “দেশনায়ক তারেক রহমান প্রতিদিন সকাল ৯টায় তার দপ্তরে উপস্থিত হন। আপনারাও সে অনুযায়ী দায়িত্বশীলতা ও সময়ানুবর্তিতার সঙ্গে কাজ করবেন।” তিনি আরও বলেন, গোপালগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনই এখন জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিনিধিত্বে রয়েছে এবং এ অঞ্চলের মানুষ উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না।তিনি জানান, কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়াসহ জেলার সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং উন্নয়ন বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে।উপজেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, স্থানীয় সরকার ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তিনি যোগাযোগ করেছেন। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কোটালীপাড়া উপজেলার প্রায় ৬০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যা আগামী জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কাজে সরকারি কর্মকর্তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।তিনি বলেন, “আপনাদের সহযোগিতা পেলে কোটালীপাড়াকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলবো।”সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।মতবিনিময় সভা শেষে এস এম জিলানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কুমার মৃদুল দাসের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর শূন্য পদসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। পরে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করে রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন।
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ০৭:২৪:০৮
মাদকাসক্ত যুবসমাজ কখনো দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না: ড. খন্দকার মারুফ
“মাদকাসক্ত যুবসমাজ কখনো দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না”—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। তিনি বলেন, মাদকাসক্ত তরুণ প্রজন্ম দেশ ও জাতির জন্য বোঝাস্বরূপ এবং জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে বড় বাধা।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কুমিল্লা-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষে প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সভায় যোগ দেন।ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, দাউদকান্দি উপজেলা ক্রমেই মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে। মাদকের রুটগুলো চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ করে মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের আনাগোনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।চাঁদাবাজির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। কোনো ব্যক্তি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি বা অন্য কোনো অপকর্মে জড়িত হলে তা বরদাশত করা হবে না এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার মনিটরিং ও স্থানীয় বিভিন্ন স্থানে মতবিনিময়কালে তিনি একই বার্তা দিয়েছেন বলেও জানান।তিনি দাউদকান্দির বিভিন্ন স্টেশনে সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজি বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। পাশাপাশি যানজট নিরসন, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ বন্ধ, চুরি প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ড. মারুফ বলেন, “আপনারা জনগণের সেবক। আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডে সেবাধর্মী মনোভাব বজায় রাখতে হবে। তাহলেই দাউদকান্দিতে একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।” তিনি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি আধুনিক, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ দাউদকান্দি গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।সভায় সভাপতিত্ব করেন দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার। এ সময় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম এ লতিফ ভূঁইয়া, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ০৭:১৪:২৩
পীরগাছায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাস গাছে ধাক্কা, আহত ৩
রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মাইক্রোবাস সড়কের পাশের গাছে ধাক্কা দিলে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুর-পীরগাছা আঞ্চলিক সড়কের ওকড়াবাড়ি মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতিতে চলার সময় চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারালে মাইক্রোবাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের একটি গাছে সজোরে আঘাত করে। এতে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা আহত হন।স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে।পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি ও চালকের অসতর্কতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ০৬:৪৫:০৭
দাবি মেনে নেওয়ায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করলেন শ্রমিকরা
বকেয়া নাইট বিল ও বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন শেষে অবশেষে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন রিপন নিট ওয়্যার লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা। মালিকপক্ষ দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করেন।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে গাজীপুরের কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় অবস্থিত রিপন নিট ওয়্যার লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করেন। এর আগে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা থেকে একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করা হয়। দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে।পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাসের বকেয়া নাইট বিল বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে শ্রমিকদের বিকাশ নম্বরে পরিশোধ করা শুরু হয়। টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর শ্রমিকরা কর্মস্থল ত্যাগ করে নিজ নিজ বাসায় ফিরে যান।কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন জানান, তিন মাসের বকেয়া নাইট বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া বাৎসরিক ছুটির বকেয়া টাকা আগামী রোববার অথবা সোমবারের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। তিনি আরও জানান, আগামী শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে কারখানার সকল কার্যক্রম পূর্বের ন্যায় চালু থাকবে।গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২, কোনাবাড়ী জোনের পরিদর্শক মো. মোর্শেদ জামান বলেন, মালিকপক্ষ শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ায় শ্রমিকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।উল্লেখ্য, তিন মাসের বকেয়া নাইট বিল ও বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন। দাবি আংশিক বাস্তবায়ন ও বাকি অর্থ পরিশোধের আশ্বাসের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকাল ০৫:২৯:২২
মাধবদীতে সৎ বাবার থেকে কিশোরীকে ‘ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা'
নরসিংদীর মাধবদীতে আমেনা আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরীকে সৎ পিতার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) সকালে মাধবদী থানার মহিষাসুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, নিহতের পিতা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাধে স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করতেন। গত ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূরার নেতৃত্বে ৫/৬ জনের একটি দল এলাকা থেকে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করা হয় ।গতকাল বাবা আশরাফ হোসেন তার কাজ শেষ মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌছলে নূরার নেতৃত্বে আরো ৫ জন মিলে তার বাবার কাছ থেকে আমেনাকে তোলে নিয়ে যায়। পরে পরিারেরর লোকজনসহ বেশ কিছুক্ষন খোঁজাখুজির পর না পেয়ে বাড়ি ফিরে যায়। সকালে একই এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো মরদেহটি দেখতে পায় স্থানীয়রা।মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছি মেয়েটির সাথে নুরার প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। এটি মেয়েটির পরিবার মেনে নেয়নি। গতকাল তাকে বাবার কাছ থেকে নুরা তোলে নিয়ে গেছিলো। পরে সকালে মরদেহ পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ছাড়াও অপরাধীদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে পুলিশ। ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে আটক করা হয়েছে। আর ধর্ষণের বিষয়টি তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকাল ০৩:০৩:১৯
গাজীপুরে রিপন গ্রুপের শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত
বকেয়া নাইট বিল ও বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্ম-বিরতি পালন করছেন রিপন নীট ওয়্যার লিমিটেড কারখানার পোশাক শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী)গাজীপুরের কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় অবস্থিত রিপন নীট ওয়্যার লিমিটেড কারখানার পোশাক শ্রমিকরা এ কর্ম বিরতি শুরু করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানাযায় গত তিন মাসের বকেয়া নাইট বিল ও বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে শ্রমিকরা গতকাল দুপুর ১২ টাকা থেকে কর্মবিরতি শুরু করে। পরে তারা বিকেল ৫ টারসময় বাসায় চলে যায়। আজ সকাল ৮ টার সময় শ্রমিকরা কারখানাতে প্রবেশ করলেও কাজ না করে কর্মবিরতি শুরু করেন। এসময় স্টাফদের সঙ্গে শ্রমিকদের বাকবিতন্ডা হয়। পরে শ্রমিকরা সবাই এসেম্বলিতে এসে অবস্থান নেয়।নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাটিং সেকশনের প্যাড প্রিন্টং এক অপারেটর বলেন,প্রতিদিন রাত ১১/১২ টা পর্যন্ত ডিউটি করি অথচ ঠিক মতো নাইট বিল পরিশোধ করা হয়না। রোজার মাসেও রাত ১১ টা পর্যন্ত ডিউটি করতে হয়।রিপন নীট ওয়্যার লিমিটেড এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন জানান,তিন মাসের নাইট বিল পাবে তাদের এক মাসের আজকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকরা তা মানছে না। শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে স্টাফদের উপর আক্রমণ করে। আমরা কোন মতে জীবন নিয়ে বের হয়ে এসেছি। গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ কোনাবাড়ী জোনের পরিদর্শক মোঃ মোর্শেদ জামান বলেন, শ্রমিকরা ভেতরে অবস্থান করছে। মালিক পক্ষ আসছে তাদের সাথে কথা বলছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি মেট্রোপলিটন পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে।
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুর ১২:০৯:৫০
হাদিয়া ছাড়াই তারাবি পড়ান মমিনপুর মাদরাসার হাফেজরা
চাঁদপুর সদর উপজেলার
বাগাদি ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মমিনপুর মাদরাসার বিশ্বজুড়ে খ্যাতি রয়েছে। এই মাদরাসার হিফজ বিভাগের সাফল্য যুগান্তকারী। এই মসজিদেই গত ছয় দশক ধরে হাদিয়া ছাড়াই তারাবি পড়ান হাফেজরা। মাদরাসা ও মসজিদ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।জেলা সদর থেকে প্রায়
১০ কিলোমিটার দূরুত্বে মাদরাসা ও মসজিদের অবস্থান। রিকশা কিংবা অটোবাইক দিয়ে সহজে যাওয়া
যায়। নদী পথে যাওয়ার উপায় রয়েছে ইঞ্জিন চালিত নৌকা করে। চান্দ্রা-গল্লাক সংযুক্ত পাকা
সড়ক থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে সাহেব বাজার ও পূর্ব দিকে মাদরাসার ক্যাম্পাস। ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে
গড়ে উঠা এই মাদরাসা দেখতে খুবই মনোমুগ্ধকর। মাদরাসা আঙ্গিনা মনজুড়ানো পরিবেশ। নদীর
পশ্চিম পাশে মাদ্রাসার অবস্থান। দক্ষিণ দিক থেকে শুরু মাদরাসা ভবন। মাঝখানে তৈরি হয়েছে
মসজিদ। খুবই সুন্দর নকশার দ্বিতল এই মসিজদে এক সঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারে কমপক্ষে
৫০০ থেকে ৬০০ মুসল্লি।মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা
কেফায়েত উল্লাহ বলেন, জেলা সদরের বিভিন্ন মসজিদে তারাবি নামাজ পড়ানো হাফেজদের হাদিয়া
দেওয়া হলেও মুমিনপুর মাদরাসা ব্যতিক্রম। এই মাদরাসা মসজিদে কখনোই হাদিয়া দেওয়া ও নেওয়ার
প্রচলন ছিল না এবং এখনো নেই। মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম হাফেজ মাওলানা মুহসিন (র.)
এই ধারা অব্যাহত রেখেছেন।এ বছর মাদরাসা মসজিদে
খতমে তারাবি পড়ান হাফেজ মো. মাহমুদ ও হাফেজ ওবায়দা। হাফেজ মাহমুদ বলেন, আমি বিগত দুই
বছর এই মসজিদে খতমে তারাবি পড়াচ্ছি। আমি কখনো বিনিময়ে হাদিয়া নেইনি। এভাবে নামাজ পড়িয়ে
আমি খুবই আনন্দিত।হাফজে ওবায়দা বলেন,
কোনো বিনিময় ছাড়া আমি এর আগে অন্য মসজিদে তারাবি পড়িয়েছি। বিগত ৩ বছর এই মসজিদে তারাবি
পড়াচ্ছি। আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। মুসল্লি জিয়া বলেন,
দ্বিতল মসজিদের নকশা খুবই সুন্দর। গ্রামের বহু মানুষ এই মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত এবং জুমার
নামাজ আদায় করেন। নিচতলা ও দ্বিতীয় তলায় সমান সংখ্যক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।
খোলামেলা পরিবেশ হওয়ার কারণে মসজিদের ভেতরে হিমশিতল অবস্থা বিরাজ করে।মুমিনপুর মাদরাসা
মুহতামিম হাফেজ রাশেদ বলেন, প্রতিবছর এই মাদরাসা থেকে যেসব শিক্ষার্থী হিফজ সম্পন্ন
করেন তারাই মুমিনপুর গ্রামের সবগুলো মসজিদে খতমে তারাবি পড়ান। একেক মসজিদে দুই থেকে
৪ জন হাফেজ নিয়োগ করা হয়। এবছরও নিয়োগ করা হয়েছে। মূলত এখানে যারা হিফজ সম্পন্ন করেন
তারাই এসব মসজিদে তারাবি পড়িয়ে তাদের যাত্রা শুরু হয়। এই কাজটি সম্পন্ন করতে পারে তারাবি
শেষ করে মুসল্লিদের মিষ্টি খাওয়ানোর মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব শেষ করে।তিনি আরও বলেন, মাদরাসা
মসজিদে প্রায় ৫০ বছরের অধিক সময় খতমে তারাবি পড়িয়েছেন চাচা হাফেজ ফজলুর রহমান। উনার
ইন্তেকালের পর শিক্ষার্থীরাই সেই ধারা অব্যাহত রেখেছে।
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ১০:৩৭:২৫
কক্সবাজারে এলপিজি পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ ১২
কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় একটি এলপিজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস)
পাম্পে বিস্ফোরণের ঘটনায় ১২ জনের মতো দগ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। আশপাশের ঘরবাড়িতে আগুন
ছড়িয়ে পড়েছে। দগ্ধদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাত ৯টার দিকে কলাতলীর হোটেল–মোটেল জোনের পূর্ব
দিকে আদর্শগ্রামে ওই পাম্পে বিস্ফোরণ হয়।কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস গণমাধ্যমকে
জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করছে।
আগুন এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও কিছুটা সময় লাগতে
পারে।গ্যাসপাম্পটি কক্সবাজার শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কের আদর্শগ্রামের টিঅ্যান্ডটি
টাওয়ারের দক্ষিণ পাশে চন্দ্রিমা হাউজিং সোসাইটিতে প্রবেশের মুখে অবস্থিত। এই সড়ক দিয়ে
ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দূরপাল্লার পরিবহনগুলো শহরে ঢোকে। গ্যাস পাম্পের আশপাশে রয়েছে অন্তত
পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি। কিছুটা দূরে (পশ্চিমে) কলাতলী হোটেল–মোটেল জোন, সেখানে রয়েছে
দুই শতাধিক বহুতল ভবনের হোটেল-রেস্তোরাঁ। আর পূর্ব পাশে রয়েছে পুলিশ লাইন্স, জেলা কারাগারসহ
একাধিক আবাসিক ভবন। গ্যাসপাম্প থেকে ছড়ানো আগুন রাত ১১টার মধ্যে কলাতলী-আদর্শগ্রামসহ
দুই কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে আশপাশের বাসিন্দারা এদিন–ওদিক ছুটতে থাকেন।
নারীরা আশ্রয় নেন পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায়।পুলিশ ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার পর পাম্পের ট্যাংক
থেকে গ্যাস নির্গত (লিকেজ) হয়ে আগুন ধরে যায়। পাম্পের কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে
তা বন্ধ করেন। কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুনরায় আগুন ধরে যায়। পরবর্তী
সময়ে সেই আগুন চারদিকে ছড়াতে থাকে।কক্সবাজার হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন,
এন আলম এলপিজি গ্যাসপাম্পটি কয়েকদিন আগে চালু করা হয়। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে
পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন ধরে গেলে কর্মচারীরা তা নিভিয়ে ফেলেন। এরপর
ট্যাংকে জমে থাকা গ্যাস ছেড়ে দেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই গ্যাস ট্যাংকে বিকট শব্দে
বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুনরায় আগুন ধরে যায়। নাশকতার উদ্দেশ্যে কেউ পরিকল্পিতভাবে ট্যাংকে
আগুন লাগিয়ে দিতে পারে।
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ০৮:৩৫:৫৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ভাতিজার হাতে চাচা খুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে চাচাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ভাতিজার বিরুদ্ধে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর কসবা পৌরসভার আড়াইবাড়ী উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।নিহত মো. রতন মিয়া (প্রায় ৫০) স্থানীয় বাসিন্দা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধের কারণে তার সৎ ভাই মিলন খাঁনের সঙ্গে বিরোধ চলছিল।অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মিলন খাঁনের ছেলে রতন মিয়ার ওপর হামলা চালায়। তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা প্রশাসনকে অবহিত করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানজিন সুলতানা জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তী আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ১০:৫৬:৫০
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ময়মনসিংহ ও নান্দাইল যাচ্ছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী
ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি তিন দিনের সরকারি সফরে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহ ও নান্দাইল উপজেলা সফরে যাচ্ছেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-এর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সফরসূচি নিশ্চিত করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে তিনি ঢাকা থেকে সড়কপথে নান্দাইলের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখানে পৌঁছে ডাকবাংলোয় তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। এরপর তিনি পর্যায়ক্রমে নান্দাইল প্রেসক্লাব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা হাসপাতাল এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তর পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে সাক্ষাৎ শেষে তিনি নিজ বাসভবনে রাত্রিযাপন করবেন।সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) তিনি স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। বিকেলে আশরাফ চৌধুরী কামিল মাদরাসায় আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করবেন।সফরের শেষ দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সকালে নান্দাইলে স্থানীয় সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। ময়মনসিংহে পৌঁছে প্রথমে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব পরিদর্শন করবেন। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন। সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় মসজিদে তারাবি নামাজ আদায় শেষে তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।প্রতিমন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে নান্দাইল ও ময়মনসিংহে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।সফরকালে তাঁর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ১০:১৬:৫০
মিঠামইনে বেড়িবাঁধে গাছ কাটার মামলায় সদস্যপদ স্থগিত হওয়া সেই বিএনপি নেতা আটক
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে সড়কে রোপণ করা গাছ কেটে ফেলার মামলায় সদস্যপদ স্থগিত হওয়া মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এদিকে, বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।প্রসঙ্গত, নিজের বাড়ির যাতায়াতের পথ সুগম করতে গত ৫ আগস্টের পর থেকে ধাপে ধাপে মিঠামইন উপজেলার কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে সড়কে রোপণ করা গাছ কেটে ফেলেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জাহিদুল আলম।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে প্রবেশ করতে হলে বাঁধের ওপর দিয়ে যেতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে চলাচলে কিছুটা সমস্যা হওয়ায় গত ৫ আগস্টের পর থেকে একে একে গাছ কাটা শুরু করেন। সর্বশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রতিটি গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। বৈদ্যুতিক করাত ব্যবহার করে গাছের গুঁড়ি কেটে ফেলা হয় এবং পরে সেগুলো সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।মিঠামইন উপজেলার দায়িত্বে থাকা বন বিভাগের কর্মকর্তা জুলফিকার জয় জানান, বেড়িবাঁধে কেটে ফেলা গাছগুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় খোয়াব নামে একটি এনজিও সংস্থা রোপণ করেছিল। বিষয়টি উপকারভোগী স্থানীয় দুস্থ নারী ও এলজিইডি দেখাশোনা করছে। এটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নদীভাঙন ঠেকাতে ওই বেড়িবাঁধে গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো এলাকাবাসীর কাছে ভাঙনরোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ০৮:৪৩:৩১
টুঙ্গীপাড়ায় গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পাথরঘাটা গ্রামের এক গৃহবধূকে স্বামীর মারধরে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত গৃহবধূ শান্তি বাইন গোপালপুর ইউনিয়নের বরৈহাটি গ্রামের সুশান্ত বৈরাগীর মেয়ে। তার দুই কন্যাসন্তান রয়েছে—একজনের বয়স আট বছর এবং অন্যজনের বয়স পাঁচ বছর।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শান্তি বাইনের স্বামী রুবেল বাইন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। বিবাহের পর প্রথমদিকে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। এলাকাবাসীর দাবি, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রুবেল প্রায়ই স্ত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। বিষয়টি উভয় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের জানা ছিল।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কন্যাসন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে শান্তি বাইন স্বামীর নির্যাতন নীরবে সহ্য করতেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে চাপ দেন রুবেল বাইন। টাকা না দেওয়ায় তিনি শান্তিকে বেধড়ক মারধর করেন এবং পেট ও বুকে গুরুতর আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।পরিবারের অভিযোগ, গুরুতর আহত অবস্থায় ওইদিন তাকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে বাড়িতেই আটকে রাখা হয়। পরদিন মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও অভ্যন্তরীণ গুরুতর আঘাতের কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের বাবার বাড়ির সদস্যরা এ ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেন, গোপালপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সরজিত বিশ্বাস ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তারা দাবি করেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে মামলা না করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে সরজিত বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিষয়টি অস্বীকার করেন বলে জানা গেছে।এ ব্যাপারে টুঙ্গীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আইয়ুব আলী জানান, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।এমন মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহত শান্তি বাইনের পরিবার, তার দুই শিশু কন্যা এবং এলাকাবাসী।